 |
পার্বতীপুর (দিনাজপুর): প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে ৭ম দিনের মতো দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট চলছে।
এদিকে, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং কয়লাখনির নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
দুপুর ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিল্লুর রহমান, দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার (ম্যাজিস্ট্রেট) মোবারক হোসেন পারভেজ, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার, পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনকারীদের সংগঠন Ôজীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটিÕর আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিল বাংলানিউজকে জানান, জেলা প্রশাসক নিজে আলোচনায় বসার জন্য আসেননি। যারা সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-রাজস্ব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) তাদের পাঠানো হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, প্রবল বর্ষণ ও মেঘের গর্জনের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা রাস্তায় পড়ে আছেন।
নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের সব অর্থ নিয়ে তবেই তারা বাড়ি ফিরবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক জামাল উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের অবকাঠামোর ক্ষতিপুরণ বাবদ ২০ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য শনিবার আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আলোচনায় বসতে সম্মত হননি। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কয়েকশÕ মানুষ ক্ষতিপূরণের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের দাবিতে খনির ১ নম্বর ফটকের (প্রশাসনিক গেট) সামনের রাস্তায় গত সোমবার থেকে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন। কয়লাখনি এলাকার ৬২৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো-গাছপালার স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য বর্তমান সরকার ১৯০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে। চূড়ান্ত জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা দাঁড়ায় ১৬৮ কোটি। এর মধ্যে কয়েক দফায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ১২০ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৮ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০১২
সম্পাদনা: শামীম হোসেন/শিমুল সুলতানা, নিউজরুম এডিটর