20121007083332.gif) |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে আটক ৭ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজনেরা।
রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আটক নাবিক মো. আমিনুল ইসলামের বাবা মো. নুরুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ৪ অক্টোবর আমিনুল ফোনে জানায় জলদস্যুরা তাদের ওপর নির্যাতন করছে। তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছে। দিনে দুটি শুকনো রুটি আর ১ লিটার ময়লা পানি খেতে দিচ্ছে।’
তারা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে আমাকে অনুরোধ করেছে, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকার ব্যবস্থা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের উদ্ধার করার জন্য।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আমিনুলের উদ্ধৃতি দিয়ে কথা বলার সময় উপস্থিত তার মা সুরমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনিও যেকোনো মূল্যে তার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানান।
তিনি বলেন, ‘আমার একটি মাত্র ছেলে। আমার ছেলেকে আমার কোলে ফিরিয়ে দেন, তাকে উদ্ধার করেন। আমার ছেলেকে আমি ভিক্ষা চাই।’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি আল-ভাদো’ ছিনতাই করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। ওই জাহাজে বাংলাদেশি ৭ নাবিক ছিলেন। জলদস্যুরা বাংলাদেশি ৭ নাবিকের মুক্তিপণ দাবি করছে ৭ লাখ ডলার।
তারা হলেন, আমিনুল ইসলাম, মো. জাকির হোসেন, গোলাম মোস্তফা, হাবিবুর রহমান, মো. আবুল কাশেম, নুরুল হক ও লিমন সরকার।
এর মধ্যে আমিনুল ও জাকির চট্টগ্রামের মেরিন এজেন্ট এভার চিয়ার মেরিন সার্ভিস ও বাকিরা ঢাকার বিএনএফ মেরিন সার্ভিসের মাধ্যমে ২০১০ সালের ৩১ জুলাই ম্যাজেস্টিক এনরিচ শিপিং এসডিএন বিএইচডি কোম্পানির মালিকানাধীন ওই জাহাজে যোগদান করে।
জাহাজটি ইরানের আব্বাস বন্দর থেকে কার্গো নিয়ে দুবাই জিবেল আলি বন্দরে আসে। ওই বন্দর থেকে বাংলাদেশি ৭ নাবিক জাহাজে ওঠেন। তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে দুবাই গিয়েছিলেন।
ওই জাহাজে বাংলাদেশি ৭ নাবিক ছাড়া শ্রীলংকার ৬ জন, ভারতের ২ জন নাবিক আটক রয়েছেন। তবে একই সঙ্গে পাকিস্তানের ৭ নাবিক আটক হলেও চলতি বছরের ১ আগস্ট সেদেশের সরকার মুক্তিপণ দিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশি ৭ নাবিককে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মেরিন সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
তবে আমিনুল ও জাকির যে এভার চিয়ার মেরিন সার্ভিসের মাধ্যমে ওই জাহাজে যোগ দিয়েছে তা তাদের ইমিগ্রেশন লেটারে উল্লেখ রয়েছে। ইমিগ্রেশন লেটারের আবেদন করেছেন ওই এভার চিয়ার’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন।
এদিকে শিপিং অফিসে সাইন ইন করে না যাওয়াতে তারা কোনো সহযোগিতা করতে পারছেন না বলেও আটক ৭ নাবিকের স্বজনদের জানানো হয়।
তবে বিষয়টি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হলে তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান নুরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৭, ২০১২
এমইউ/টিসি; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com