 |
ঢাকা : সার্বিকভাবে ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, বাজেটের আকার অনেক বড়। এটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাজেটের যথাযথ সফলতা আসবে।
তবে উৎসকর বৃদ্ধি করায় হতাশ হয়েছেন দেশের র্শীষস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা। দেশের সার্বিক শিল্পোন্নয়নের কথা চিন্তা করে এ কর কমানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তৈরি পোশাকশিল্প উৎপাদন ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘অনেক বড় বাজেট। তাই সরকারের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। বাজেটের সফলতা নির্ভর করে এর বাস্তবায়নের ওপর। আশা করি, সরকার এ বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যে সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ইটিপি স্থাপনের জন্য আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ওপর আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করার উদ্যোগগুলো দেশের রফতানিমুখী শিল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
‘০.৬০ এবং ০.৭০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে উৎসকর ১.২০ শতাংশ নির্ধারণ করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এটা কমানো প্রয়োজন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মহিউদ্দিন বলেন, দ্রব্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব মন্দার জন্য পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। এ অবস্থায় তৈরি পোশাক শিল্প সংকটের মধ্যে রয়েছে। সরকারের এ শিল্পের জন্য প্রণোদনা দেওয়া উচিৎ। তা না হলে বিভিন্ন বর্ধিত কর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বাংলানিউজকে বলেন, বাজেটে আবারো বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু রফতানিমুখী শিল্পের জন্য উৎসকর ১.২০ শতাংশ নির্ধারণ করা যৌক্তিক ও সময় উপযোগী হয়নি।
তিনি আরো বলেন, প্রতিযোগী ও প্রতিবেশী দেশের মতো ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণের ওপর ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে ১৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ ব্যাংক ঋণের সুদের হার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আলাদা বরাদ্দ, শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া, পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, রফতানিমুখী শিল্পের উন্নয়নে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ওষুধ শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা, রাজধানীর কারওয়ানবাজারের জনতা টাওয়ারকে সফট্ওয়্যার পার্ক করার ঘোষণা, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে আনা, সিরামিকের কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পরিবেশ রক্ষায় ইটিপি স্থাপনের জন্য আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ওপর আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করার উদ্যোগ রফতানিমুখী শিল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সালাম মুর্শেদী বলেন, বাজেটে নতুন শিল্প কারখানায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত ও গ্যাসের সরবরাহ ও সংযোগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ন ফান্ডের গৃহায়ন তহবিল থেকে ডরমেটরি নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, দেশের রফতানি শিল্প মন্দার মধ্যে আছে। বিশ্ব মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে রফতানি কমে গেছে। এ অবস্থায় প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি করা সরকারের ঠিক হয়নি।
স্টারলিন গ্রæপের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘সার্বিকভাবে বাজেট ভালো হয়েছে। তবে আমরা এ বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। একই সঙ্গে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, সরকার উৎসকর কমাবে। এখন উল্টো দেখা যাচ্ছে, সরকার উৎসকর বাড়িয়ে নিয়েছে। এটা কোনোভাবে ঠিক হয়নি। এটি কমানো প্রয়োজন।’
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই’র পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ ইয়ামিন বাংলানিউজকে বলেন, অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, আপাততদৃষ্টিতে এটাকে ভালো মনে হচ্ছে। এর সফল বাস্তবায়নে বাজেটের যথাযথ সফলতা আসবে।
বাংলাদেশ সময় : ১৭৪০ ঘণ্টা, জুন ০৮, ২০১২
টিএইচ/এআর/সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর