৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বুধবার মে ২২, ২০১৩ ২:৩৩ পিএম BDST banglanew24
29 Jun 2012   08:08:23 PM   Friday BdST
E-mail this

এবিসি কনভেনশনে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত


কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
এবিসি কনভেনশনে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত
নিউইয়র্ক : বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে গ্র্যাজুয়েশনকারী বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের সঙ্গে এবিসি কনভেনশনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ।

নিউইয়র্ক  : বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ২৩ ও ২৪ জুন নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ-কানাডা (এবিসি) কনভেনশন’র তৃতীয় আয়োজন শেষ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে যারা মহিমান্বিত করেছেন- যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ভার্সিটি/কলেজে যারা বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে, কষ্টার্জিত অর্থে যারা দেশ ও প্রবাসে সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন-এমন কয়েক ডজন মেধাবী ছাত্র ও পরোপকারী বাংলাদেশিকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় এ কনভেনশন থেকে।


এছাড়া, সমসাময়িক ১১টি বিষয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অংশ নেন স্ব স্ব বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্নরা। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত এবং বাংলাদেশের দু‘শতাধিক পেশাজীবী অংশ নেন বিভিন্ন পর্বে।

অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে আরো ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের প্রতিনিধি ইমিগ্রেশন বিষয়ক কমিশনার শ্যামা ফাতিমা, ফিলাডেলফিয়া সিটি মেয়রের প্রতিনিধি ড. নীনা আহমেদ, নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার জন ল্যু, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, স্বাধীনতা পুরষ্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ড. কামরুল হায়দার, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. মনসুর খান, কবি শহীদ কাদরী, চীনা রেডিওর বাংলা বিভাগের পরিচালক গুই ওয়াংউই, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, আমার দেশ পত্রিকার প্রধান সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী,  ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদ পাঠক সরকার কবীর উদ্দিন, মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিবিসির বাংলা বিভাগের প্রাক্তন উপ প্রধান সিরাজুর রহমান, ভোয়ার সাংবাদিক সৈয়দ জিয়াউর রহমান, সংবাদ পাঠক কাফি খান, বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রধান সাবির মোস্তফা, কলামিস্ট ও পরিবেশবাদী ফরহাদ মজহার, বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক দিলারা হাশেম, শিল্পী আপেল মাহমুদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমিরিটাস অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান খান,   টাওয়ার হ্যামলেটস সিটির ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আমিরুল ইসলাম খান বুলবুল, অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত পরিচালক কবি লেখক জামাল যোশেফ, ভারতের জনপ্রিয় উপস্থাপক সতিনাথ মুখোপাধ্যায়, চিত্রশিল্পী অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা, লন্ডনের চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান প্রমুখ।


এ কনভেনশনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতি ছিল সরব এবং তা কোনভাবেই পরিবেশকে উত্তপ্ত করেনি। কম্যুনিটিতে ভিন্ন মতাবলম্বীদের সহাবস্থানের এটি এক অনন্য তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছিল।

প্রবাসের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সভাপতি ডঃ সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট, জেপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আলাউদ্দিন ভুলু, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল, মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার নেতা মাহতাবউদ্দিন প্রমুখ।


উল্লেখ্য, এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানর’এ এবং লাল গালিচা সংবর্ধনায় অভিষিক্ত হয়ে অতিথিরা প্রবেশ করেন এস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরের বর্ণাঢ্য অডিটোরিয়ামে।


‘এসো দেশ গড়ি’ শ্লোগান নিয়ে তৃতীয় এই কনভেনশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশের গৌরব লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটস সিটির সরাসরি ভোটে নির্বাচিত মেয়র লুৎফর রহমান।

এছাড়াও দেশ ও প্রবাসের সেরা কীর্তিমান ও সফল মানুষ যারা আমাদের মুখ উজ্জ্বল ও সম্মানিত করেছেন, তারাও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনভেনশনের প্রতিষ্ঠাতা কনভেনর ও ঠিকানা পত্রিকার প্রেসিডেন্ট  সিও সাঈদ-উর- রব।

বক্তব্য রাখেন কনভেশনের সদস্য সচিব এস এম জাহাঙ্গীর ও সেমিনার কমিটির চেয়ারম্যান লেখক, কলামিস্ট  অধ্যাপক দেওয়ান শামসুল আরেফীন। আমন্ত্রিতদের মধ্যে থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্কের দুই টার্মে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এম  আজিজ।  

কনভেনশনের বিভিন্ন পর্বে মেয়র লুৎফর রহমান বলেন, বাংলাদেশিদের সামগ্রিকভাবে তুলে ধরার জন্য এবিসি কনভেনশনের মত আয়োজন সত্যি মহৎ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের নিজস্ব শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য, প্রবাস জীবনে নিজস্ব সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা চর্চা ও লালনের জন্য এবিসি কনভেনশনের আয়োজকদের উদ্যোগ অত্যন্ত  প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এ রকম উদ্যোগ আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে এবং একে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে হবে।

মেয়র লুৎফর রহমান বলেন, লন্ডনে বাংলাদেশিদের সাফল্য আজ ঈর্ষণীয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি সমাজনীতি রাজনীতি শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি শিক্ষা-সকল ক্ষেত্রে আমরা অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে চলেছি। এখন আমরা বৃটেনের মূলধারার বাইরের শক্তি নই। মূলধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ আমরা। আমাদের অবদান আজ আর কারও অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি গর্বিত উচ্চারণে বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়রের অধীনে কাজ করেন ১০ হাজার কর্মচারী। ১.০৫ বিলিয়নের বাজেট মেয়রের হাতে।

আসন্ন অলিম্পিকের কথা উল্লেখ করে মেয়র রহমান বলেন, সেখানেও আমাদের উল্লেখযোগ্য অবদান থাকবে। এখন বাংলাদেশিরা লন্ডনে সর্ববৃহৎ কম্যুনিটি। রাজনীতিতে আমাদের সরব পদচারণা। সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশি বৃটিশরা প্রতিনিধিত্ব করছেন। আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাঙালী মন্ত্রী দেখব আশা করি। তিনি বলেন, বাঙালীরা আজ বিজয় নিশান উড়াচ্ছেন দেশে দেশে। এবিসি কনভেনশনের এই বিপুল আয়োজন তারই অনুপম দৃষ্টান্ত।

আমন্ত্রিত অতিথি ও উপস্থিত সুধীজনকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানিয়ে কনভেনর সাঈদ-উর রব বলেন, এবিসি কনভেনশন কোন প্রথাগত সম্মেলন বা বিনোদন আয়োজন নয়। যে শুভ চিন্তা ও সুন্দর প্রত্যাশা থেকে এবিসি কনভেনশনের জন্ম, তার লক্ষ্য সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মান। আমরা যে মাতৃভূমি ফেলে রেখে এসেছি, তাকে সঠিকভাবে বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে এবং বিশ্বকে মানুষের বাসযোগ্য করে তোলার আকাঙ্খা নিয়ে এবিসি কনভেনশনের পথ চলা শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্য এত সহজে অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এর প্রতি মানুষের সমর্থন ও টান স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাইতো প্রথম থেকে দ্বিতীয় এবং দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় কনভেনশনের ধারাবাহিক কলেবর বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছে প্রবাসের মানুষ।  

রব বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা, লক্ষ লক্ষ মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছেন দেশ-সেই স্বপ্ন আজও পূর্ণতা পায়নি। সেই দেশ আজও গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, সেই স্বপ্ন আমরা সফল করতে চাই। কিন্তু আমরা ব্যক্তিগতভাবে সাফল্যের পরিচয় দিলেও, কালেকটিভলি সাফল্যের পরিচয় দিতে পারিনি আজও। আমরা চাই সবাই মিলে সফল হতে।

কনভেনশনের সদস্য সচিব এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, দ্বিধা বিভক্তি নয়, সকলের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম হিসেবে এবিসি কনভেনশন সকলের মত প্রকাশ ও ভাববিনিময়ের  মধ্য দিয়ে সম্মিলিত সহযোগিতাপুষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।


গমস্ত অন্ধকার দূরে ঠেলে দিয়ে গত দুই আসরে এবিসি প্রবাসে বাংলাদেশি কম্যুনিটির  সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক ও অভিন্ন মন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এবিসি সম্মেলনের নবজাগরণে উত্তর আমেরিকার বাঙালিরা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মূলধারায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর গৌরবময় প্রত্যয়ে দীপ্যমান হবে-এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।  


সেমিনার কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান শামসুল আরেফীন বলেন, এবিসি কনভেনশনের মূল ফোকাস হচ্ছে সেমিনার। এবারও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি সেমিনার হলো। এটাই এবিসি কনভেনশনের ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য।


বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি এম আজিজ এবিসি কনভেনশনের মত এত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের এবং তাদের আমন্ত্রনে সাড়া দেয়ার জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমরা অনেক কিছুই সেতুবন্ধ রচনার প্রয়াসে আয়োজন করি। কিন্তু প্রায়শই ভাঙ্গনের কষ্ট সইতে হয়। এবিসি কনভেনশন ভাঙ্গনের কাঁটা দূর করে মিলনের মোহন বাশী বাজাচ্ছে।  
এগারটি সেমিনারের মধ্যে ছিল আউটসোর্সিং : বাংলাদেশের আইটি সেক্টরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাংলাদেশের সামাজিক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ইস্যু, কর্পোরেট আমেরিকায় ভাগ্য-গড়ুন -মেধার আর অপচয় নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সাংঘর্ষিক কিনা, সুখী-দাম্পত্য জীবন সমাজ উন্নয়নে সহায়ক, পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে সন্তান-অভিভাবক দ্বন্দ্ব : সংকটে প্রবাস কম্যুনিটি, প্রবাসের চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য-আবাসন সংকট এবং উত্তরণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃতীয় শক্তির উত্থান জরুরি কি-না, সম-সাময়িক বাংলা সাহিত্যে প্রবাসের অবস্থান, পানি আগ্রাসন: ভাটি অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয় কতটা হুমকি এবং খেলাধুলা স্বদেশে ও প্রবাসে।

অনুষ্ঠানে দু‘দিন গান গেয়ে স্টেজ মাতান বেবী নাজনীন, আরেফীন রুমী, প্রতীক হাসান, কালা মিয়া, কলকাতার শিল্পী অলক রায় চৌধুরী।

স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন কাবেরী দাস, স্বপ্না কাওসার, ফারজানা পপি, শাহ মাহবুব, খায়রুল আলম সবুজ, চন্দ্রা রায়, তানভীর শাহীন, নিউজার্সি থেকে আগত অলিম্পাস ব্যান্ড, ফরহাদ, বস্টন থেকে মেজর মনিরের নির্মিত বাংলাদেশের উপর জেমস এর সিডি প্রদর্শন, স্থানীয় সেলিম ইব্রাহিম ও রুবিনা, সবিতা দাসের নেতৃত্বে বহ্নিশিখার শিল্পীবৃন্দ, শ্রুতিকণা দাস, সুরছন্দের শিল্পীবৃন্দ।  

নৃত্যসহযোগে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুর বাহারের শিল্পীবৃন্দ, নিউজার্সি থেকে লিলি সাবরিন। এছাড়া এবিসির উপর রচিত সঙ্গীত পরিবেশন করেন আনোয়ার হোসেন মুন্সি ও তার দল। নৃত্য পরিবেশন করেন জর্জিয়ার মঞ্জিমা, ফ্লোরিডার বেঙ্গলি মাহাম-এর অনিভা ও স্বর্ণা। ডা. জিয়া প্রদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিদেশি বন্ধুরা  শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিলেন জিএইচ আরজু, আবীর আলমগীর, কয়ছর রশীদ, ফারজানা পপি এবং আফরিন জুলি। সমাপ্তি ঘোষণা করেন সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ-উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সেমিনার, টক শো, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পুরস্কার বিতরণীসহ দু’দিনের সবকিছুই প্রত্যেকে গভীর মুগ্ধতায় উপভোগ করেছেন।


এছাড়া নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও তাদের প্রাণচাঞ্চল্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ববোধের সঙ্গে তাদের কর্মতৎপরতা সমগ্র আয়োজনকেই ভিন্নমাত্রা দান করে। এবিসি কনভেনশন উপলক্ষে চাররঙা একটি দৃষ্টি নন্দন ও তথ্যসমৃদ্ধ ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়।

জমজমাট এবিসি কনভেনশনের দু’দিনে বিভিন্ন স্টলে প্রত্যাশিত ব্যবসা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেমিনারের পাশাপাশি সুলতান গ্যালারির চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন কনভেনশনের বিশেষ অতিথি ফরহাদ মজহার। কবি শহীদ কাদরীকে নিয়ে ঘুরে দেখেন বাংলাদেশ থেকে আগত ফুলব্রাইট স্কলার, চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা, লন্ডন থেকে আগত মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, অলিম্পিক গোল্ড মেডেলিস্ট খুরশীদ আলম সেলিম ও নবীন চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ টোকন ।


 উত্তর আমেরিকার বিশিষ্ট কবিদের বসেছিল কবিতা আসর। আবৃত্তি করেন কবি শহীদ কাদরী, ফারুক আজম, মুজিব বিন হক, শামস আল মমীন, ফকির ইলিয়াস, মঞ্জুর কাদের, নূরজাহান কাদের, হারুন চৌধুরী, জুনায়েদ আক্তার, কাওসারী মালেক রোজী, এবিএম সালেহউদ্দিন ও ফারুক ফয়সল।


মোহাম্মদ জামান তপনের তত্ত্বাবধানে পরিবেশিত হয় এবিসির ওপর রচিত গান। পরিবেশনায় ছিলেন আনোয়ার হোসেন মুন্সী, ফেরদৌসী ইকরাম, মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, আলেয়া ফেরদৌস, নিগার সুলতানা, শহীদ কায়েস, রুবিনা, তুহিন আজাদ ও সেলিম ইব্রাহীম।

মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব সাহিত্যে বাংলা সাহিত্যের অবস্থান কোথায় এবং বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন বাংলা ভাষার জন্য কতটুকু হুমকি। উপস্থাপনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ফেরদৌস সাজেদীন। অংশ নেন  বস্টনের ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের সাইন্টিস্ট ড. গুলশানারা কাজী ও নজরুল গবেষক সতীনাথ মুখোপাধ্যয় প্রমুখ।

ড. কামরুল হায়দার ও ড. মনসুর খানের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ফরহাদ মজহার।  বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় বেবী নাজনীনকে। ক্রেস্ট তুলে দেন কনভেনশনের আহবায়ক সাঈদ-উর-রব।

কৃতি সাঁতারু মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে একে একে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন বেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিভা জামান, হার্ভার্ডের আরশ সারওয়ার, লংআইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারহানাজ জামান, বেনেথ হাইস্কুলের গোলাম রহমান তৌসিফ, হার্ভার্ডের জামাল হোসেইন খান, ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লামিয়া খান, বস্টন কলেজের নাফিজ লিংকন, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধুরী ইয়াসমীন খান, ফোর্ডহাম ইউনির্ভার্সিটির মার্শা মোজাম্মেল, এমআইটির মাইসুন হাসান, ইস্ট ওয়েস্ট টিউটোরিয়ালের মোহাম্মদ আমিন, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নওরীন গনী, সিটি ইউনির্ভাসিটির সোফানা রব, হার্ভার্ডের রাবিতা ফারুক, এনওয়াইউর শায়লা শারমীন শতাব্দী, হার্ভার্ডের তুরান সরওয়ার, রাটগারর্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিমা মোস্তফা, এম আইটির সাদমান তরফদার, কলম্বিয়ার আনাতোল আশরাফ, পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শফি চৌধুরী, সৈয়দ টিউটোরিয়ালের নাজিম উদ্দীন তানভীর, খান টিউটোরিয়ালের ইশরাক খান, এমআইটির রাকিবুল কেতান ও নিউ প্রিপারেটরি টিউটোরিয়ালের ফারহান চৌধুরী।


বিশিষ্ট লেখক হাসান ফেরদৌসের উপস্থাপনা করেন টক শো । আমাদের গর্ব আমাদের অহঙ্কার পর্বে সম্মাননা প্রদান করা হয় মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন বাঙালিকে। সম্মাননা গ্রহণ করেন বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জনের অন্যতম উদ্ভাবক সুমাজি ডটকমের সুমাইয়া কাজী, ওবামার স্বাস্থ্য প্রশাসনের উপদেষ্টা ড. রায়ান সাদী, অস্কার বিজয়ী উদ্ভাবক নাফিজ বিন জাফর ও ১০৭ প্যাটেন্টের আবিস্কারক  ড. দলিলুর রহমান।  আবৃত্তির পর অতিথিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন কনভেনশনের কনভেনর সাঈদ-উর-রব। এরপর কম্যুনিটি সম্মাননা প্রদান করেন লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র। সমৃদ্ধ এসব পর্বের পর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পীদের পরিবেশনা।
 
বাংলাদেশ সময় : ২০০১ ঘণ্টা, জুন ২৯ , ২০১২
এলএ/সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন  
Kumar.sarkerbd@gmail.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

প্রবাসের চিঠি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান