৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, সোমবার মে ২০, ২০১৩ ৮:২২ এএম BDST banglanew24
10 Oct 2012   05:25:33 PM   Wednesday BdST
E-mail this

হিমেল দিবাকর-এর কবিতা

এক দীর্ঘতর অভিমানের গান শুনিয়ে বৃষ্টি এলো...


হিমেল দিবাকর
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
এক দীর্ঘতর অভিমানের গান শুনিয়ে বৃষ্টি এলো... হিমেল দিবাকর-এর কবিতা

এক দীর্ঘতর অভিমানের গান...

মৃত্যুর শীতল স্বর— ডাবের শাঁসের ভেতর লুকিয়ে থাকা সে এক দূরতর অভিমান; একদিন রোদেলা রাত্তিরে জীবন ছিলো ওপারে জলপাই ডালে। সম্ভবত জোনাকির জ্বর এলে রাত্রি পোড়ে দুয়েক আধুলি; গোধূলির পথ ধরে হেঁটে গ্যাছে চাঁদ বরাবরই— রাখাল হেথায় ক্রিকেট খেলুড়ে, সন্ধ্যা অভিমুখে ছুঁড়ে দিচ্ছে অবহেলায় আমন ক্ষেতের সুঘ্রাণ এবং টেপ-টেনিস সম্ভাবনা সমানুপাতিক। বাঁশবনের ফাঁকে ‘কাজলা দিদি’র চান্দের চেয়ে হারিকেনের চিমনীর ভেতর এক সলতে উষ্ণতা ভালো জেনে ‘রাখপাল’ যখন পতঙ্গ-জীবন খোঁজে, শতকের নবম-নরম আলোয় তখন রাহু-কেতুর পেটে লোপাট হয়ে গেল সমস্ত নীল সুস্বাদ! মাথার উপর ছাদ নেই; তবুও আশ্রয় ছিলো এক। বিষাদ বিভোর অন্ধকারে শুধু তার ডানার গভীরে ওম, আহা একটু ওম! রাখাল এখনো পতঙ্গ-প্রবণ; যদিও তালপাতায় ঝুলে থাকা বাবুই পাখির নীড়ে নিবিড় কেউ নেই আর! প্রাগৈতিহাসিক ঢেউয়ে ভেসে গ্যাছে যে যার মতোন। নদীও নেই আজকাল; শুধু এক ভৌগোলিক ছায়ার মাঝে ছলাৎ ছল ফিরে আসে, তীরে আসে, ধীরে আসে— মৃত্যুর শীতল-কোমল স্বর।
ট্রেন ফিরে গ্যাছে আস্তাবলে; যাত্রীরা ভিড়ে গ্যাছে প্রান্তিক কোলাহলে। সে আসেনি, আসবেনা কোনও দিন। ইস্টিশানে তবু একা, এক দীর্ঘতর অভিমানের গান শুনিয়ে বৃষ্টি এলো…

আমার সাম্প্রতিক অসুখ

কাঠি ছোঁয়ালেই বৃষ্টি নামে...
পৃথিবীর বাস্তুভিটায় ফুলে-ফলে দুয়েকটি মহাকাল বিগত হলে
বিপরীত বসন্তে যখন প্রজাপতির দলে আমি নেই;
অথবা বিগলিত বায়স্কোপে মাছ কিংবা মাছির ভূমিকায় তুমি ছিলে না,
সেই পরম স্নিগ্ধতা পেরিয়ে লাল ওড়না— উড়ে উড়ে পাখি।
সহসাই সোনার কাঠি হাতে সভ্যতার দেয়াল ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে
কাঠুরিয়া— এক, দুই, অফুরণ পক্ষীভোজী!
হাত ঘুরালেই কাঠি হয়ে উঠে সাপ...
হিসহিসিয়ে জিভ ছুটে গেলে ওমের তরে, সর্পিল নাটকীয়তায়
পালক পুড়ে, ডানা ভাঙে;
বৃষ্টি নামে... বৃষ্টি নামে।
গত শতকে রবীন্দ্রনাথের দাড়ি চুরি গেলে বিষাদে বিস্ফারিত
কাকেরা বাড়ি ফেরে না; এবং— নোঙর ছিঁড়ে কাঠুরিয়া পালালে
এইসব পৈতৃহাসিক ব্যাভিচার জিপারবন্দী করে
রূপার কাঠি হাতে অনৈতিক বৃষ্টি-বিভ্রমে বিলুপ্ত হই!

গৃহপালিত অথবা মৃতের গল্প

তিড়িং-বিড়িংযের দিন ফুরায়েছে; তিনু এখন তিন ঠ্যাংয়ে হাটে!
আর দুয়েকটা ছা-বাছুর, তারপর ঠিকঠাকই গৃহপালিত।
এ পাড়ার সবচেয়ে উড়ালমুখী জবা ফড়িংয়ের ইদানীং
ডানা নেই— সুতরাং অবেলায় অবরোধে বসন্ত ওখানে মৃত।
বিস্ফোরিত হাসি আর কান্নার সুর ক্রমশ মিহি কোমল নতজানু;
সারাদিন যেখানে ইচ্ছে সেখানে— এখন বারান্দা পেরুতে বারণ।
চারকোণে ক্রমশ ম্রিয়মাণ চাঁদ গলে গলে ঝরে গেলে মাঝরাতে
তিনুরা আবাদি হয়, পুঁজ ও পাঁজরের জৈবে বেড়ে ওঠে আমন!
তিনু এখন শিমুল তুলোয় বোনা কারো ব্যাক্তিগত কোলবালিশ—
আরামদায়ক বিছানাসঙ্গী; নদী তবু প্রবল জোয়ারে ঢেউ না।
ইদানীং সে কেবল শারীরিক আপত্তিকর, কারো অনৈতিক সুস্বাদ;
দিন ফুরায়েছে, এখন সে আমার কেউ না— আমাদের কেউ না…

বাংলাদেশ সময় : ১৬১১ ঘণ্টা, ১০ অক্টোবর, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

শিল্প-সাহিত্য

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান