 |
| ছবি: মিথুন/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
খুলনা: অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচেই বল হাতে জ্বলে উঠলেন স্পিনার সোহাগ গাজী। তাকে সঙ্গ দিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ আরেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর তামিম, নাঈম ও আনামুলদের ব্যাটিংয়ে ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে ‘ক্লিনিক্যাল উইন’ তুলে নেয় বাংলাদেশ। সফরকারীদের দেওয়া ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এ জয়ে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৯ (৪৬.৫ ওভার)
বাংলাদেশ: ২০১/৩ (৪২.২ ওভার)
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই স্বভাবমূলক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মেতে ওঠেন তামিম ইকবাল। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই মারলন স্যামুয়েলসকে বাউন্ডারি হাঁকান তামিম। পরের ওভারে রবি রামপলকেও বাউন্ডারি মারেন তিনি। ৫১ বলে ৫৮ রান করে ওয়ানডেতে ২৪তম অর্ধশতক করেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। দলীয় ৮৮ রানে সুনিল নারিনের বলে পোলাডের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তামিম। তার ইনিংসে ছিলো ৮টি চার ও দুটি ছয়ের মার।
অপর ওপেনার আনামুল হক কিছুটা সংযত ব্যাটিং করেন। ১১২ রানে ক্যারিবিয় অধিনায়ক স্যামির বলে তার হাতেই ধরা পড়েন আনামুল। ৬২ বলে ৪১ রানের ইনিংসে সাতবার বল সীমানাছাড়া করেছেন তিনি। উদ্বোধনী জুটির পর নাঈম ইসলাম ও নাসিরের ৪৫ রানের জুটিতে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌছে স্বাগতিকরা। ২৯ বলে ২৮ রান করে আন্দ্রে রাসেলের শিকার হন নাসির।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন নাঈম ইসলাম। ধৈর্য্যশীল ইনিংসে তৃতীয় ওয়ানডে অর্ধশতক আদায় করেন। ৭৯ ছয়টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৫০ (অপঃ) রান করেন নাঈম। অন্যদিকে মুশফিকুর রহিম করেন অপরাজিত ১৬।
সুনিল নারিন, আন্দ্রে রাসেলও ড্যারেন স্যামি একটি করে উইকেট পেয়েছেন।
এর আগে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। টেস্টের মতো ওয়ানডে অভিষেকেও দুর্দান্ত নৈপূণ্য দেখান সোহাগ গাজী। এই অফস্পিনারকে দারুণ সঙ্গ দেন অপর স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ডানহাতি ও বাহাতি দুই স্পিনারে নাস্তানাবুদ হয় ক্যারিবিয়রা ব্যাটিং লাইনআপ।
নিয়মিত উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ চতুর্থ উইকেটে কায়রন পোলার্ড ও ড্যারেন ব্রাভোর ৫০ রানের এবং নবম উইকেটে রবি রামপল ও সুনিল নারিনের ৫৭ রানের জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায়।
ক্যারিবীয়দের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন সুনিল নারিন। এছাড়া ক্রিস গেইল ও ড্যারেন ব্রাভো উভয়েই করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান। রামপলের ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান।
২৯ রানে চারটি উইকেট শিকার করে অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখেন ম্যাচ সেরা হওয়া সোহাগ গাজী। এছাড়া আব্দুর রাজ্জাক ৩৯ রানে তিনটি উইকেট দখল করেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি বিন মতুর্জা ও মাহমুদুল্লাহ।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১২
এফএইচএম/সম্পাদনা: আহসান হাবিব সম্রাট, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- eic@banglanews24.com