 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: ময়মনসিংহে গারো পাহাড়ের প্রান্তবর্তী সুসং দুর্গাপুর অপার পর্যটন সম্ভাবনাপূর্ণ দুর্গম এলাকা। ময়মনসিংহ থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরের এ জনপদে আজও গড়ে ওঠেনি উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহ সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন এ অপরূপ সৌন্দর্য ভূমিতে পৌছানো রীতিমতো দুরূহ কাজ।
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার। সড়কপথে যাতায়াতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা। অথচ ময়মনসিংহ থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এর মধ্যে ময়মনসিংহ থেকে পূর্বধলা হয়ে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল পর্যন্ত অবাধে চলাচল করা অসম্ভব হলেও ঝাঞ্জাইল বাজারের পর শুকনাকুড়িতে রয়েছে মরণফাঁদ। রাস্তা একেবারেই খারাপ। সম্প্রতি ব্রিজ হলেও মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক পাকা। অবশিষ্ট রাস্তা খানাখন্দে ভরা।
জারিয়া-ঝাঞ্জাইলে কংস নদীর উপর বেইলি ব্রিজ থাকলেও ব্রিজটি মূলত ওয়ানওয়ে। একটি ট্রাক উঠার পর পথচারীদের জন্য নিরাপদ জায়গা ওই ব্রিজটিতে নেই। এরইমধ্যে দুর্ঘটনায় ব্রিজ থেকে পড়ে বা যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে অন্তত ১০ জন লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।
গত বিএনপি সরকারের সময়ে ঝাঞ্জাইল-বিরিশিরি রাস্তায় ছিল মরণফাঁদ। সোমেশ্বরী নদীর ঢালে বিরিশিরি সড়কের শুকনাকুড়ি ভাংতিতে গত ৪০ বছর ব্রিজ নির্মাণ ঝুলে ছিল। অবশেষে সম্প্রতি এ ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। খানাখন্দে ভরা। ইট-সলিং উঠানো বিরিশিরির এ সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
দুর্গাপুরের প্রবেশপথ কংশ তীরের ঝাঞ্জাইল বাজার থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রাস্তায় ৪ টি ব্রিজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে পলাশকান্দি, বালুরঘাট ও শান্তিপুর বেইলি ব্রিজ যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনার ফাঁদ হয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ময়মনসিংহ-বিরিশিরি সড়ক কোন রকম উন্নয়ন ধারার আওতায় না আসায় দুর্গাপুর বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয়েছে।
সুসং দুর্গাপুর উপজেলা সদর সংলগ্ন দক্ষিণের ইউনিয়ন বিরিশিরি। সোমেশ্বরী নদীর অববাহিকায় বিরিশিরি প্রায় ৩’শ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জনপদ। সোমেশ্বরীর ঢালায় দুর্গাপুর এর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হলেও বিরিশিরি স্বনামখ্যাত।
ব্রিটিশ আমলে ইংরেজ খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতার গোড়াপত্তন হয় এ বিরিশিরি ও রাণীখং এলাকায়। জিয়াউর রহমানের আমলে বিরিশিরিতে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি। এছাড়াও এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
পাশাপাশি ঐতিহাসিক টঙ্ক আন্দোলন, হাতিখেদা আন্দোলন ছাড়াও ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের কারণে বিরিশিরি, সুসং দুর্গাপুর এলাকা ঐতিহাসিকভাবে খ্যাত।
পূর্বধলা কলেজের প্রিন্সিপাল ও প্রখ্যাত নাট্যকার শহীদ খান বলেন, “দুর্গাপুর-বিরিশিরি এলাকার এখন প্রধান দু:খ এখানকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ সড়ক যেন এখানকার উন্নয়ন স্থবিরতার এক প্রদর্শনী হয়ে আছে।
ঝাঞ্জাইলের কৃতি সন্তান ব্যবসায়ী শেখ হারিছের মতে, ঝারিয়া-ঝাঞ্জাইলের কংশ নদীর উপর ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণ হলেও বিরিশিরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ময়মনসিংহ থেকে মাত্র এক ঘণ্টায় এখানে পৌছা সম্ভব। এ সড়কের উন্নয়ন হলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণ বিরিশিরি-বিজয়পুর-দুর্গাপুর এলাকার উন্নয়ন সম্ভব।
গারো পাহাড়ের অপরূপ নিঃসর্গ দুর্গাপুর-বিরিশিরিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দারুণভাবে আকর্ষণীয়। কেবল ময়মনসিংহ থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার হলেই দুর্গাপুর পর্যটন শিল্প দেশে কোটি কোটি টাকার যোগান দিতে পারবে।
অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিরিশিরি গড়ে ওঠার কথা থাকলেও শুধু রাস্তার বেহাল দশার জন্যই সেটি সম্ভব হচ্ছে না। আর এ বিষয়ে নেত্রকোনা-২ দূর্গাপুর-কলমাকান্দা আসনের সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রূহীর সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১২
জেএ/এআর/ জেডএম