 |
ঢাকা: হজ যাত্রী পরিবহনে বিতর্কিত লিজিং কোম্পানি কাবো’র উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার সব প্রক্রিয়া ঠিক করে ফেলেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ। আর এ কাজে এখন তৎপরতা চালাচ্ছেন জামাল উদ্দিনের পারিবারিক ঘনিষ্ঠ পলাশ।
তবে নিজেকে সে কারো কাছে চেয়ারম্যানের ভাতিজা, কারো কাছে চেয়ারম্যানের ছেলে জোবায়েরের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিমানের পদোন্নতি, বদলি, শাস্তি, কেনাকাটাসহ উড়োজাহাজ লিজ সবক্ষেত্রেই চলে পলাশের হস্তক্ষেপ।
বিমানবালা নূরজাহানের স্বামী পলাশের বিমানে আবির্ভাব ২০০৯ সালে। ওই সময় কাবো’র উড়োজাহাজ লিজ কিংবা ভাড়া নিয়েই বিমানে তার যাতায়াত শুরু।
এবারের হজের জন্য নাইজেরিয়া ভিত্তিক বিতর্কিত কাবো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার কাজে আবারও তৎপর হয়েছে পলাশ।
কাবো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ নিয়ে হজ কেলেঙ্কারির পরেও বিগত কয়েক বছর ধরে বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের তৎপরতার কারণে বিমান এই উড়োজাহাজ নিতে বাধ্য হয়েছে। হজ মৌসুমের আগে একাধিক লিজ প্রদানকারী কোম্পানি বিমানে দরপত্র জমা দিলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা বাতিল হয়ে যেত। ২০১১ হজ মৌসুমে কাবোর উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে দরপত্র চার দফায় বাতিল করার নজিরও রয়েছে। এবছরও ঠিক একই ধরনের ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে।
এ বছর বিমান হজের জন্য তিনটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৫ জুন বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় হজের জন্য এভিকো ও এয়ার আটলান্টার দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত হয়। ওই সময় কাবোকে বাদ দেওয়া হলেও হাল ছাড়েনি পলাশ।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, পলাশ জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে কাবোর উড়োজাহাজ নেওয়ার ছক তৈরি করে ফেলেছে। বর্তমানে জামাল উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আর তার অনুপস্থিতিতেই দু’একদিনের মধ্যেই বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হচ্ছে। সভায় পর্ষদ সদস্যরা যাতে কাবো’র পক্ষে থাকেন সে ব্যবস্থা জামাল উদ্দিন আগেই সম্পন্ন করে রেখেছেন। কাবোর পক্ষে অনুমোদনের দায় যেন জামাল উদ্দিনের ঘাড়ে না বর্তায় সেজন্যই তার এই কৌশল। কেউ যদি প্রশ্ন করে তাহলে তিনি যাতে বলতে পারেন, সভায় তিনি ছিলেন না। সুতরাং এ নিয়ে তার সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন ওঠা অবান্তর।
কাবো প্রথম দফায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের আবেদন বাতিল করেছিল বিমান। এরপরেও তারা দ্বিতীয় দফার দরপত্রে আবেদন করে।
এ বছর রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমান ৬০ হাজার হজ যাত্রী পরিবহনের দায়িত্ব পেয়েছে। যাত্রী বেশি হওয়ায় এবার বিমান ৩টি উড়োজাহাজ ভাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় বেশ কয়েক মাস আগে। এরই মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলা সত্ত্বেও দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহবান করে। যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বিমান সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের পছন্দের কোম্পানির উড়োজাহাজ ভাড়া নিতেই বিমানের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা দ্বিতীয়বার আবার দরপত্র আহবান করে।
নাইজেরিয়া ভিত্তিক উড়োজাহাজ কোম্পানি কাবো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে হজ কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এজন্য বিমানের পরিচালনা পর্ষদ কাবোকে তালিকাভুক্তির সুপারিশও করেছিল।
হজ যাত্রী পরিবহনে এভিকো ও এয়ার আটলান্টার উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে বিমান দুটি লিজিং কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চুড়ান্ত করেও চুক্তি সই করতে কালক্ষেপণ করছিল। শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর উপরোক্ত দুটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চুড়ান্ত হয়। তবে কাবো’র তৎপরতা এখনো চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৮৩০ ঘণ্টা, জুলাই ২৩, ২০১২
আইএইচ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর