ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক জিএম (নিরাপত্তা) দুর্নীতিবাজ মমিনুল ইসলাম বরখাস্ত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন।
অসততা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ২০ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
দুর্নীতি ও চোরাচালানের অভিযোগে একাধিকবার চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া মমিনুল ইসলামের চাকরিতে পুনরায় বহাল হওয়ার বিষয়টি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানের ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) জামাল উদ্দিন আহমেদের বিশ্বস্ত এবং ঘনিষ্ঠ লোক হওয়াতেই চাকরি ফিরে পেলেন মমিনুল।
বিমানের চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন। সর্বশেষ গত মার্চে বিমানের প্রধান কার্যালয়ে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কর্মীদের লাগানো সব পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে আন্দোলনকারীরা বিমানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল পাননি।
মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চোরাচালান, দায়িত্বে অবহেলাসহ বহু অভিযোগ রয়েছে। এরপরেও বিমানে বহাল তবিয়তে চাকরি ফিরে পেলেন তিনি।
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এ বিষয়ে মমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ``প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটের সব কাজ এসএসএফ তত্ত্বাবধায়ন করে থাকে। ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য নামগুলো বিমান থেকে যায়। এখানে অন্যের দায়িত্বের অবহেলা আমার ওপর চাপানো হয়েছে। আমার যদি ত্রুটি থাকতো তাহলে আমার জেলে থাকার কথা ছিল।``
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী কোর্স (লং কোর্স) থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে ১৯৯০ সালে মমিনুল ইসলাম বিমানে যোগ দেন একজন জুনিয়র সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে। এরপর ১৯৯৬ সালে ৮ জনকে ডিঙিয়ে পদোন্নতি পান তিনি।
১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে চোরাচালান ও বিমানের একজন গাড়িচালককে মারধরের কারণে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। ২০০১ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে তিনি চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০০৬ সালেও তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে প্রতিবেদন দেয় গোয়েন্দা সংস্থা। বিমানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম এ মোমেন এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেন। কমিটি প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর ওই বছরের জুনে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে বিমানবন্দর থেকে তাকে একবার বিমান ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ আছে, ঘুষ দিয়ে তিনি সেখান থেকে পুনরায় বিমানবন্দরে বদলি হন।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের কার্গো আমদানি-রপ্তানি বিভাগে তার একটি বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আছেন শাহজাহান, ইদ্রিস, তোফায়েল, সাইফুল, সেলিম, রকিবুল। এরা মমিনুলের হয়ে চোরাচালানের অর্থ সংগ্রহ করেন। শুধু তাই নয়, কার্গো বিভাগে প্রতি ১৬ দিনে ডিউটি রোস্টার করা বাবদ বিমানের কর্মীদের কাছে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন।
বিমানে যোগদানের আগে তার বাড়ি ছিল টিনশেডের। এখন সেখানে তিনতলা অট্টালিকা। সেই সঙ্গে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর সড়কে যে ফ্লাটটিতে তিনি থাকেন তার বাজার মূল্য ১ কোটি টাকার উপরে।
২০০৭ সালে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে মমিনুল ইসলাম পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন। চাকরি ফিরে পেয়ে তার রূপ বদলায়নি। বরং নতুন উদ্যমে তিনি নানা অপকর্মে জড়িত হন।
এ বিষয়ে বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ প্রসঙ্গে মমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, তিনি সব সময় বিমানের হয়ে কাজ করেছেন। তার কাজের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারাই ষড়যন্ত্র করে তাকে বিভিন্ন সময় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ``বিমানের ফ্লাইট যাত্রীশূন্য থাকে অথচ মানুষ টিকেট পায় না। আমি এ ধরনের দুটি ঘটনা হাতেনাতে ধরেছিলাম। এজন্য একটি চক্র তদবির করে আমাকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করেছে।``
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, জুন ৫, ২০১২
আইএইচ/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
Jewel_mazhar@yahoo.com