ঢাকা: ১৮ দলীয় জোটের ডাকা মঙ্গলবার হরতালের প্রভাব পড়েছে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ঘুরে দেখা যায় হাউজগুলো প্রায় বিনিয়োগকারী শূন্য।
বিনিয়োগকারী কম থাকায় লেনদেনেও পড়েছে ভাটা। এদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩৯ কোটি টাকা।
লেনদেন নির্ধারিত সময়ে শুরু হলেও হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি নেই একেবারেই। ফলে হাউজ কর্মকর্তারা পার করছেন অলস সময়।
লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর সদস্য ১১৬টি ব্রোকারেজ হাউজ সঠিক সময়ে লগ ইন করলে নির্ধারিত সময়ে লেনদেন শুরু হয়।
মঙ্গলবার আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, ৠাপিড সিকিউরিটিজ, ইউএফটিসিএল সিকিউরিটিজ, ট্রাস্টি সিকিউরিটিজ, ডিবিএল সিকিউরিটিজ, রয়েল সিকিরিটিজ, আজম সিকিউরিটিজ, আনোয়ার সিকিউরিটিজসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজগুলো ঘুরে দেখা যায় হাউজগুলোতে তেমন কেউ নেই।
রয়েল সিকিউরিটিজের প্রতিনিধি শাহজাহান বাংলানিউজকে বলেন, “বাজারে মন্দাভাব থাকায় এমনিতেই বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কম, তার ওপর আবার হরতাল।”
এছাড়া শুরুতে বাজার নেতিবাচক থাকায় লেনদেনের পরিমাণও কম বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, হরতালে যানবাহন না থাকায় বিনিয়োগকারীরা হাউজে উপস্থিত হননি। অনেকে টেলিফোনে বা ব্যক্তিগত নম্বরে বিনিয়োগ করছেন, তবে তা অন্যদিনের চেয়ে অনেক কম।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইর সূচকের ব্যাপক উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যায়। এরপর সূচক উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।
আনোয়ার সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারী আব্দুল খালেক বলেন, “হরতালে রাস্তা ফাঁকা ছিল। তাই তাড়াতাড়ি মতিঝিলে এসে পৌঁছেছি। কিন্তু বাজার নিম্নমুখী থাকায় লেনদেন একেবারেই করতে পারছি না।”
যে দামে শেয়ার কিনেছিলেন, এখন সে দামই তোলা সম্ভব হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন,“বাজারে বিনিয়োগকারীরা আসতে না পারলে আমরা লেনদেন করবো কিভাবে।”
ডিবিএল সিকিউরিটিজের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, আজ হরতালের প্রভাব বাজারে স্পষ্ট। হরতালের পাশাপশি সূচক পতনের কারণেও অনেকে বাজারে আসেননি। বিনিয়োগকারীরা লোকসানে থাকায় তারা বাসায় বসেই খোঁজ খবর নিচ্ছেন। অনেকে আবার টেলিফোনে শেয়ার বেচাকেনা করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১০, ২০১২
এসএনএইচ/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর/আরআই