চট্টগ্রাম: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩তম জন্মদিন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে নজরুলের কবিতা এবং সংগীতে মুখর ছিল পাহাড় ঘেরা এই সবুজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিলো নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার পঙক্তিগুলো।
বিদ্রোহী কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নজরুল গবেষণা কেন্দ্র বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ মিলনায়তনের ২নম্বর গ্যালারিতে।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্য ও স্বাধীনতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির প্রাণের ও প্রেরণার কবি। নব জাগরণের যুগস্রষ্টা অসাধারণ প্রতিভাধর এই কবি সাহিত্যের সকল শাখায় বিচরণ করেছেন বীরদর্পে। বাংলা গানের জগতে সুর ও বাণীর ক্ষেত্রে ঘটিয়েছেন এক অনন্য বিপ্লব।
উপাচার্য আরিফ বলেন, উপনিবেশের নিয়ন্ত্রণেও নজরুলের পুরো জীবন তাঁর বিদ্রোহী চেতনার মাধ্যমে মুক্তিকামী জনতাকে উৎসাহিত করেছে, অনুপ্রাণিত করেছে স্বাধীনতা অর্জনের পথে। কবির এই সামগ্রিক বিদ্রোহ শোষণ, নির্যাতন, ধর্মীয় গোড়ামী ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।
‘সংগ্রামী চেতনা ও সৃষ্টিশীলতার মাহাত্মেই কবি নজরুল হয়েছেন আমাদের জাতীয় কবি। তার বর্ণাঢ্য জীবন ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম আমাদের অন্তহীন প্রেরণার উৎস,’ যোগ করেন তিনি।
দ্রোহ ও প্রেম নজরুলকে সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের প্রতীক করেছে উল্লেখ করে প্রফেসর আরিফ বলেন, ‘১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদ্রোহী কবির গান ও কবিতা মুক্তিকামী বাঙালিকে সাহস যুগিয়েছে, অনুপ্রাণিত করেছে। অনন্য প্রেরণাসঞ্চারী মানব উদ্দীপ্ত আপন সৃজনকর্মের মহীমায় নজরুল বাঙালির চেতনায় ও বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
শিক্ষার্থীদের তিনি নিজের সত্ত্বাকে জাগ্রত করতে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা ও বৈচিত্র্যময় বাণী এবং সুরের আদর্শ ধারণ করে আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
পরে উপাচার্য নজরুল গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘নজরুল কাব্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. সৌরেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. রফিকউল্লাহ খান।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের প্রফেসর এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য ড. শিরীণ আখতার।
এরপর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আবৃত্তি ও সংগীত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশন করেন নন্দিত নজরুল সংগীতশিল্পী ফাহমিদা রহমান এবং আবৃত্তি করেন প্রখ্যাত আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫১৬ ঘণ্টা, মে ২৬, ২০১২
এমবিএম/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর