ঢাকা: ভারতীয় ঋণে রেলওয়ের জন্য এয়ার ব্রেক সম্বলিত ১৭০টি এমজি ফ্ল্যাট ওয়াগন (বিএফসিটি) ও ১১টি এমজি ব্রেকভ্যান ক্রয়ে ঠিকাদার নিয়োগসহ ১৪টি দরপত্র প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অনুমোদিত সবক’টি দরপত্রের মোট আর্থিক পরিমাণ হচ্ছে ৯২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব দরপত্র প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব নুরুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতীয় ঋণে রেলওয়ের জন্য এয়ার ব্রেক সম্বলিত ১৭০টি এমজি ফ্ল্যাট ওয়াগন (বিএফসিটি) ও ১১টি এমজি ব্রেকভ্যান সরবরাহের কাজটি পেয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘তিতাগড় ওয়াগন লিমিটেড’। এগুলো ক্রয়ে ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
এছাড়া বৈঠকে রেলওয়ের আরো দুটি প্রকল্প কাজের দরপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সেকশনে রেলওয়ের ১৩টি স্টেশনের সিগন্যাল এবং ইন্টারলকিং ব্যবস্থা পুনর্বাসন এবং আধুনিকীকরণে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান এলএস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিস্টেম কোম্পানিকে মনোনীত করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭০ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
অপরটি হচ্ছে রেলওয়ের ময়মনসিংহ-জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সেকশনে রেললাইন পুনর্বাসনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব। এতে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয় বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৫৯ কোটি ৫৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
ঢাকা ওয়াসার লাইন পুনর্বাসন ও সরবরাহ কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন এলাকার পুনর্বাসন কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ‘লাডউইগ পিফাইফার হোচ-আন্ড টিফবো জিএমবিএইচ। এতে ব্যয় হবে ২৫ কোটি ৮১ লাখ ১১ হাজারটাকা। এ কার্যক্রমের আওতায় ঢাকার ধানমণ্ডি, জিগাতলা, কলাবাগান, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, পিসি-কালচার হাউজিং, মনিপুরি পাড়া, গ্রিনরোড, ফার্মগেট, রাজাবাজার ও আশেপাশের এলাকার সরবরাহ লাইন পুনর্বাসনের কাজ করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আগামী ২০১৩ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি, দাখিল এবং দাখিল (ভোকেশনাল) স্তরের বিনামূল্যের বই মূদ্রণ, বাঁধাই ও পরিবহনের কাজের জন্য ১১০টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৬২ কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
একই শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং এসএসসি পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষার জন্য বিনামূল্যের বই ছাপানোর কাজে ব্যবহারের জন্য ১১ হাজার মেট্রিক টন ছাপার কাগজ এবং ৮শ’ মেট্রিক টন কার্টিজ কাগজ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৯১ কোটি ৪২ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
এছাড়া আমদানি করা কাগজের মান নিয়ন্ত্রণে আমদানি এবং অবতরণ পর্যায়ে পরিদর্শন খাতে আরো ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) সাহায্যপুষ্ট ‘স্কুল ফিডিং’ কার্যক্রমের জন্য ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৬ টাকার বিস্কুট কেনার অবশিষ্ট অর্থ ছাড়েরও অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। নাবিস্কো, সেন্ট্রাল মার্কেটিং, মাসাফি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট, রেসকো বিস্কুট ও মনা ফুড কোম্পানি থেকে এসব বিস্কুট কেনার অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাইকা’র অর্থায়নে পল্লী বিদ্যুতায়ন উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য মালামাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৫৭ কোটি ৮৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮০ টাকা ব্যয়ে এসব মালামাল সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে হ্যাংঝোউ ক্যাবল শেয়ারহোল্ডিং কোম্পানি।
পূর্বাচল নতুন প্রকল্পের জন্য নর্দমাসহ রাস্তা নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়ন কাজ এবং কুড়িলে ফ্লাইওভার নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।
এর মধ্যে ৬টি লটে নর্দমাসহ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছে কন্টেমপোরারি, আতাউর রহমান খান, নিয়াজ এবি জেভি, রানা বিল্ডার্স, এমআরসি-এসএইচ-আরবি জেভি ও মাসুদ অ্যান্ড কোম্পানি। এ কাজে মোট ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
পূর্বাচলের ভূমি উন্নয়ন কাজের জন্য ২২৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকার ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ কাজের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছে নূরুজ্জামান খান এবং এআরকে-আইএইচ জেভি।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুষ্টিয়া-হরিপুর সড়কে গড়াই নদীর ওপর ৫০৫ মিটার স্ট্রেসড গার্ডার এবং যশোরের অভয়নগরে ভাঙ্গাগেট-আমতলার সড়কে নওয়াপাড়া ভৈরব নদীর ওপর ৬৯৭ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ দুটি সেতু নির্মাণের সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে ঢাকার মিরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনোয়ার হোসেন খান। এতে গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ৫৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং ভৈরব নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব সম্বলিত দরপত্র অনুমোদন করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ সরকার এবং এডিবি’র অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘দ্বিতীয় শষ্য বহুমুখীকরণ’ প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এতে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
বাংলাদেশ সময় : ১৯২৫ ঘন্টা, জুলাই ১৯, ২০১২
এসআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর