 |
ঢাকা: সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় শিল্প প্লট বরাদ্দ নেওয়ায় চ্যানেল আই, এনটিভি, বাংলাভিশন, যায়যায়দিন, আমার দেশ, সকালের খবরসহ ১১টি সংবাদ মাধ্যমকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
এছাড়া টেলিকম, তৈরি পোশাক, ফ্লাওয়ার মিল, ফিলিং স্টেশনের নামে প্লট নেওয়ায় তলব করা হয়েছে আরও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে।
আগামী ১২ জুন তাদেরকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেজগাঁও এলাকায় বর্দ্দা পাওয়া প্লট মালিকদের তালিকা দাখিল করার পর বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট তাদের তলব করেন।
আদালতে তালিকাটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিএম আলতাফ হোসেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, আদালতে পিক এন্ড চুজের একটি অভিযোগ ছিলো। অভিযুক্তদের তলবের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো আদালত সবার জন্য সমান।
আদালতে দেওয়া তালিকায় যাদের নাম রয়েছেন তারা হলেন, দৈনিক আমার দেশের পক্ষে হাশমত আলী, ডাইপার লিমিটেডের পক্ষে মোহাম্মদ লুতফর রহমান, রুপালী সুয়েটার্সের পক্ষে আতিক উল্লাহ, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের (চ্যানেল আই) পক্ষে পরিচালক, সাপ্তাহিক রোববারের পক্ষে সাজু হোসেন, এনটিভির পক্ষে এম এনায়েতুর রহমান , দৈনিক খবরপত্রের পক্ষে হাফিজ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের পক্ষে এম শাহজাদ আলী, অটো ফ্লাওয়ার মিলস এর পক্ষে বি ইউ চৌধুরী, আশা পলি এন্ড প্যাকেজিং এর পক্ষে নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ, শ্যামটেক্স লিমিটেডের পক্ষে শাহআলম, মেসার্স রয়েল ফিলিং স্টেশনের পক্ষে মাশফিকুল হক, জাহিদ ট্রেডার্স এন্ড স মিলসের পক্ষে রুহুল আমিন ভ’ইয়া, চ্যানেল ওয়ানের পক্ষে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন , শ্যামল বাংলা মিডিয়া লিমিটেডের (বাংলাভিশন) পক্ষে আব্দুল হক, ব্রার্দাস গামেন্টস লিমিটেডের পক্ষে আমিনুল ইসলাম, গ্রীণ ওয়েজ ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে আজম জে চৌধুরী, দৈনিক সকালের খবরের পক্ষে বেগম তাহমিনা শওকত, দৈনিক পথযাত্রার পক্ষে কে এম সহিদ উল্লাহ, দৈনিক পূর্বাভাসের পক্ষে এ ওয়াই মো. কামাল, প্যাসিফিক কেমিক্যালস লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ফোকাস ফ্যাশন লিমিটেডের পক্ষে নাজমা ইসলাম, যায়যায়দিনের পক্ষে শফিক রেহমান ও উম্মে খান ফ্যাশন লিমিটেডের উম্মে জে খান।
এর আগে একই ঘটনায় দুই সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও জিয়াউল হক জিয়া, নাজমা ইসলাম (কামরুল ইসলামের স্ত্রী) ও মুশফিকুল হক (জিয়াউল হক জিয়ার ছেলে) এবং শফিক রেহমানকে তলব করেন হাইকোর্ট।
তারা ২২ মে আদালতে হাজির হওয়ার কারণে এবং জেলে থাকায় গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে ১২ জুন আদালতে হাজির হতে হবে না।
উল্লেখ্য, ২২ মে আদালত তেজগাঁও এলাকায় কারা সরকারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ পেয়েছে তাদের তালিকা জমা দিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তালিকাটি হস্তান্তর করার পরই বৃহস্পাতিবার সংশ্লিষ্টদের তলব করেন আদালত।
এছাড়াও ২২ মে আদালত যেসব আদেশ দেন তার মধ্যে রয়েছে- তেঁজগাও শিল্প এলাকায় প্লট বরাদ্দে কোন অনিয়ম হয়েছে কি না তার তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করবেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব। কমিটিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এছাড়া, প্লট বরাদ্দে কোন দুর্নীতি হয়েছে কি না তা তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন আদালত।
এসব তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসময়ের মধ্যে শফিক রেহমান, কামরুল ইসলাম ও জিয়াউল হককে তাদের ঢাকার সম্পত্তির হিসাব দিতেও বলেন আদালত।
একইসঙ্গে সাংবাদিক শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে ‘স্পেকট্রাম রেডিও দুর্নীতির’ তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী প্রকল্পের পাশে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করলে হাইকোর্ট স্বতপ্রণোদিত হয়ে গত ৯ মে সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও জিয়াউল হক জিয়াকে তলব করেন। পরে গত ১৬ মে শফিক রেহমানকে তলব করেন আদালত।
বাংলাদেশ সময় ১৫৪১ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১২
এমইএস/সম্পাদনা: মাহমুদ মেনন, হেড অব নিউজ