 |
মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু তার ষড়রিপু। মানুষের সাফল্য ও ব্যর্থতার অন্যতম নির্ধারক হলো তার ষড়রিপুর ব্যবহার।
যে ব্যক্তি তার সেই ষড়রিপু দমন করে জীবনের পথ চলতে পারে মানুষের মধ্যে তিনিই সফল বলে বিবেচিত।
রাগ-ক্রোধ হলো আমাদের সেই শত্রু যাকে দমন করার মাঝেই আমাদের বাহাদুরি।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত বাহাদুর সেই ব্যক্তি, যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।’ (মুসলিম)
কিন্তু আমাদের সমাজে যার রাগ বা ক্রোধ বেশি তাকেই বাহাদুর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানুষ ক্ষেত্র বিশেষে তাকে সমীহও করে থাকে। আবার যারা সমাজের মাথা তাদের একটু আধটু রাগ না থাকলেতো চলে না- এমন ধারণাও প্রচলিত আছে।
রাগ বা ক্রোধ দিয়ে তারা সমাজের মানুষকে অবনত করে রাখতে চায়, নিজেদের প্রভাবকে প্রতিষ্ঠিত ও টিকিয়ে রাখতে চায়।
কিন্তু ইসলামে ক্রোধ সংবরণ করে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাগ প্রদর্শনের মাধ্যমে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে যেমন অমর্যাদা করা হয়। তেমনিভাবে যিনি ক্রোধ প্রদর্শন করেন তিনিও তার স্বাভাবিক মানবীয় গুণাবলী থেকে সরে আসেন। যা ইসলামে কাম্য নয়।
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে বস্তুতt আল্লাহ্ সৎকর্মশীলদিগকেই ভালবাসেন। (সুরা আল ইমরান, ৩: ১৩৪)।
যারা সৎকর্মশীল তারা কখনো অপরের প্রতি ক্রোধ প্রদর্শন করে না। যদি ক্রোধ চলেই আসে তবে কুরআন ও হাদিসে তা সংবরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন প্রকৃত ঈমানদারের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো ক্রোধ সংবরণ করতে পারা।
রাসুল (সা.) বলেন, `ঈমান পূর্ণ করার চারটা আমল, যা কিছু মানুষকে দেবো আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য, যা কিছু নেব আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য। যাকে ভালোবাসব আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসব। যার প্রতি রাগ করব তাও আল্লাহকে খুশি করার জন্য।’ (তিরমিজি)
কাজেই কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশে কারো প্রতি ক্রোধ প্রদর্শন করা ঠিক নয়। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একদিন রসুলাল্লাহ (স.) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, `হে আল্লাহর রসুল, আপনি আমাকে কিছু অসিয়ত করুন। উত্তরে নবী করিম (স.) বললেন, “তুমি রাগান্বিত হয়ো না” সে ব্যক্তি একথাটি কয়েকবার বলল। উত্তরে নবী করিম (স.) (প্রত্যেকবারই একই কথা) বললেন, তুমি রাগান্বিত হইয়ো না’। (সহীহ বুখারী )
ক্রোধ ইসলাম ও ঈমানের পরিপন্থি। এটি শয়তানের প্ররোচনা। ক্রোধ সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। এটি সাম্য, সহমর্মীতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিপন্থি। আমাদের সমাজে যেসব অপরাধ হয় তার একটি বড় কারণ ক্রোধ। খুব সামান্য কারণে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মানুষ অনেক সময় খুন-জখমসহ নানা গুরুতর অপরাধ করে থাকে।
ইসলামে ক্রোধ সংবরণের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ কর হয়েছে। যদি কেউ ক্রুদ্ধ হয়ে যায় তবে তাকে শান্ত হওয়ার পথও বাতলে দিয়েছে ইসলাম। আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে, “কেউ যদি দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে তার উচিত সাথে সাথে বসে পড়া, আর রাগ না কমা পর্যন্ত ওই অবস্থায় থাকা। এতেও যদি রাগ না কমলে তার উচিত শুয়ে পড়া।”
তাই আমাদের সবারই উচিত ক্রোধ সংবরণ করে মানুষের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল আচরণ করা। সবাই যদি ক্রোধ সংবরণ করতে পারে তাহলে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রে শান্তি ও শৃ্ঙ্খলা বিরাজ করবে। আসুন আমরা সবাই ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে ক্রোধ সংবরণ করি ও সবার প্রতি সহানুভূতিশীল হই।
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা
মেইল: bn24.islam@gmail.com