 |
| ছবি : দেলোয়ার হোসেন বাদল /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা ‘সমুন্নয়’ আয়োজিত বাজেট প্রতিক্রিয়ার আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমত তুলে ধরেন।
বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন্ন, ``সামগ্রিক বিবেচনায় অর্থনীতিতে বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে দেশের অর্থনীতি প্রতিশ্রুতিশীল এবং বর্ধিষ্ণু। কিন্তু ঝুঁকি এবং নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন। অনেক সূচক উদ্বেগজনক। তবে বেশ কিছু ভালো লক্ষণও রয়েছে।``
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষিব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এনামুল হক।
এসময় আকবর আলি খান সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ``সরকারের অনেকেই বলছেন, সরকার এত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করল, তার জন্য কেউ প্রশংসা করছে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের দুঃখ, তারা লোডশেডিং থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। এত বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে তা গেল কোথায়।``
তিনি বলেন, ``আমরা সরকারকে প্রশংসা করবো যদি সরকার বলে, কতগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে আছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৃত কী পরিমাণ?``
আকবর আলি খান মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বলেন, ``ইদানিং অনেকেই বলেন, মূল্যস্ফীতি নাকি খারাপ কিছু না। কিন্তু মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিতে উদ্বেগের তৈরি করে, সুদের হার বাড়ায় এবং বিনিয়োগ কমে যায়। ৯ থেকে ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কষ্টের। এটি গরিব এবং যাদের আয় স্থির তাদের জন্য দুঃখের।``
তিনি আরও বলেন, ``গত ৩ বছরে মূল্যস্ফীতি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর বাজেটে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এর জন্য কী করা হবে তা বলা নেই। বিগত বছরগুলোতেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।``
আকবর আলি খান বলেন, ``অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণ নেওয়ার সময় অর্থনীতির চাপের কথা স্বীকার করেছেন। চুক্তি সাহসী সিদ্ধান্ত, কিন্তু শর্ত মেনে ঋণ ছাড় করাতে না পারলে অন্য দাতাদের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হবে।``
তিনি আরও বলেন, ‘আইএমএফের হিসাব মতে, আগামী তিন বছরে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা দরকার। কিন্তু আমরা দাতাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলছি তাতে করে এত সহায়তা পাওয়া যাবে কি?``
গত কয়েক দশকে অর্থনীতি নিয়ে রাজনীতি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ``অর্থনীতি নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কথা বলে অর্থনীতি চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার অর্থনীতি দিয়ে রাজনীতি চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব ঠিক হচ্ছে না। এতে হিতে বিপরীত হবে।``
তিনি বলেন, ``সাধারণ মানুষের কাছে কোনো সরকার এলো আর কোন সরকার গেল তা বড় কথা নয়। বড় কথা লোডশেডিং বন্ধ হয়েছে কি না।``
আকবর আলি খান বলেন, ``সরকারের মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী আসছে অর্থবছরে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ কমে যাবে। কিন্তু এটি অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগ কমলে তা উদ্বেগের কারণ হবে।``
খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ``বাজেট ঘাটতি যে খুব বেশি তা বলবো না। তবে ২৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক নির্ভর হলে ব্যক্তিখাত বাধাগ্রস্ত হবে। এখানে ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঋণ দেওয়া সম্ভব হবে না। চলমান তারল্য সংকট আরও বাড়বে। বাড়বে সুদের হারও।`` তাই সরকারকে বিকল্প উৎস খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি।
তার মতে, ``সরকার ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ না বাড়িয়ে, বন্ড মার্কেট থেকে এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে টাকা নিতে পারে।``
মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, ``এখন যে পরিমাণ মূল্যস্ফীতি রয়েছে তা উদ্বেগজনক। আমাদের প্রধান সংগ্রাম প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। এজন্য লাগলে প্রবৃদ্ধিতে ছাড়ও দেওয়া যেতে পারে।``
মূল্য প্রবন্ধে এনামুল হক বলেন,``অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য যত সুন্দর, বাজেটের পেপার তত সুন্দর নয়। আশাবাদ আছে, কোনো নির্দেশনা নেই।``
বাংলাদেশ সময়: ১৬১৫ ঘণ্টা, জুন ০৯, ২০১২
এসএআর/সম্পাদনা : আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর