 |
ঢাকা: নিয়ম মেনে আবেদন না করায় ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৪ হাজার ভুয়া এজেন্টের লাইসেন্স আটকে দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এতে লাইসেন্সহীন এজেন্টদের মাধ্যমে পলিসি করে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকেরা।
গত এপ্রিল থেকে এজেন্টদের লাইসেন্সের আবেদনের সঙ্গে প্রার্থীর ছবি ভোটার পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দাখিলের নির্দেশ দেয় আইডিআরএ। কিন্তু নির্দেশনা না মেনেই আবেদন করে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। এতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই আবেদন করায় এসব লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
আইন অনুসারে অনুমোদনবিহীন এজেন্টদের মাধ্যমে বীমা পলিসি করা অবৈধ। এসব পলিসির আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এতে মেয়াদ শেষে অথবা মৃত্যুজনিত কারণে দাবি উত্থাপিত হলে তা আদায়ে গ্রাহক আইনগত জটিলতায় পড়ে। ফলে গ্রাহকের দাবি আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল লাইফের যেসব লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে তার মধ্যে ৯০ শতাংশ নবায়নযোগ্য লাইসেন্স। ভুয়া ব্যক্তিদের নামে আবেদন করায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারছে না কোম্পানিটি।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, প্রায় চার মাস ধরে এসব আবেদন আইডিআরএ’র কার্যালয়ে পড়ে রয়েছে। বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ন্যাশনাল লাইফ তাদের কাগজপত্র দাখিল করতে পারেনি।
সূত্র আরো জানায়, এসব লাইসেন্সের অনুমোদন পেতে নানাভাবেই কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে কোম্পানিটি।
এ বিষয়ে বুধবার ন্যাশনাল লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জামাল নাসেরকে ফোন করা হলে তিনি মিটিং-এ আছেন বলে লাইন কেটে দেন।
বৃহস্পতিবার ফের যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘যে কোনো বিষয়ে কোম্পানির জনসংযোগ অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ এরপর তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহামুদুল হক তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ এজেন্ট রয়েছে। এজেন্টদের সঠিক তথ্য দিতে না পারলে তারা কাজ করবে না।’
আর এজেন্টদের লাইসেন্স নবায়ন করবে আইডিআরএ। এতে তো কারো সমস্যা দেখছি না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে আইডিআরএ’র উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব লাইসেন্স অনুমোদন দিতে আইডিআরের চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল এ নাসের। তবে কাগজপত্র ছাড়া তা অনুমোদন দিতে অস্বীকার করে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ।
চলতি বছরে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার লাইসেন্স। এর মধ্যে জুন মাসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ছয় হাজার। নিয়ম মাফিক আবেদন না করায় গত এপ্রিল থেকে প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সের আবেদন পড়ে আছে আইডিআরএ’র কার্যালয়ে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে কথা বলে জানা গেছে, বীমা কোম্পানিগুলো ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে এজেন্সি লাইসেন্স নিয়ে আসছে। এসব ভুয়া এজেন্টদের নামে প্রিমিয়াম আয় ও কমিশন প্রদান দেখিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিত তারা। এ কাজটি তারা করতো সাবেক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগসাজসে।
ভুয়া এজেন্ট নিয়োগ ও তাদের নাম ব্যবহার করে কমিশন দুর্নীতি বন্ধে গত এপ্রিলে লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদনের সঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দাখিলের নির্দেশ দেয় আইডিআরএ।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পর বীমা এজেন্টদের লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য নিয়ম মাফিক আবেদন করছে না বীমা কোম্পানিগুলো। এসব আবেদন পাঠানো হচ্ছে প্রার্থীর ভোটার আইডি ও অ্যাকাউন্ট নম্বর ছাড়াই। ফলে নতুন ও নবায়ন লাইসেন্সের জন্য পাঠানো অধিকাংশ আবেদন অনুমোদন দিতে পারছে না।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম. শেফাক আহমেদ বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিয়ম মাফিক আবেদন করা জন্য কোম্পানিগুলোকে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা তা না মেনেই আবেদন করছে। ফলে এসব আবেদনে অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘অধিকাংশ কোম্পানিতে ভুয়া এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হতো। কোনো কোম্পানি যাতে ভুয়া এজেন্ট নিয়োগ দিতে না পারে এ কারণে কর্তৃপক্ষ থেকে এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এম শেফাক বলেন, ‘এতে কমিশন নিয়ে দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১২৪৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৯,২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর