 |
চট্টগ্রাম: অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) পরিচালনার জন্য সাইফ পাওয়ারটেককে বাদ দিয়ে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রয় সংক্রান্ত কারিগরি ইউনিট (সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট-সিপিটিইউ)।
এদিকে সাইফ পাওয়ারটেককে বাদ দিয়ে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দেয়াতে বুধবার বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।
দ্বিতীয় দফায় আহ্বান করা যেসব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করে প্রথম দফায় মনোনিত ৪ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বহাল রেখে পুনরায় দরপত্র প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরকম নির্দেশের ফলে টেন্ডারের ১২টি শর্ত শিথিল করার পরও বহুল আলোচিত সাইফ পাওয়ারটেক এ টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়লো।
সিপিটিইউয়ের রিভিউ প্যানেল-৩ এর চেয়ারম্যান এম শামসুল হক শুনানি শেষে সোমবার এক রায়ে এ আদেশ দেন।
দ্বিতীয় দফায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পূর্বের চারটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এনসিটির প্রকল্প পরিচালক ও বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর নাজমুল আলম স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, এনসিটির টেন্ডারে আনীত বিভিন্ন সংশোধনীতে আপত্তি করে ফিলিপাইনের ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনাল সার্ভিসেস (আইসিটিএস) অভিযোগ করে সিপিটিইউর আপিল প্যানেলে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আপিল প্যানেলে গত ২৮ আগস্ট প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বন্দর কর্তৃপক্ষকে সংশোধনীর ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলে আপিল প্যানেল।
তখন দরপত্র নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বন্দরকে কোনো অগ্রগতি থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু গত ৩০ আগস্ট ৬টি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার জমা দিতে বলে। তখন ৫টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার জমা দেয়। তবে আইসিটিএস টেন্ডারে অংশ নেয়নি।
জানা গেছে, এনসিটির দরপত্রে নিয়ম ভেঙে শর্ত সংশোধনের অভিযোগ করে ফিলিপাইনের টার্মিনাল অপারেটর ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনাল সার্ভিসেস।
গত ১৪ আগস্ট সেন্টার প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) এর মহাপরিচালকের কাছে এই অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল এম ডি জিসুস। এই অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে একটি রিভিউ প্যানেল গঠন করে সেন্টার প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট।
ওই প্যানেলের প্রথম শুনানিতে প্যানেলের চেয়ারম্যান এম শামসুল হক বন্দর কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দরপত্রের কোনো প্রকার অগ্রগতি থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন ।
এনসিটি টেন্ডারে সাইফ পাওয়ারটেককে কাজ পাইয়ে দিতে ১২টি শর্ত শিথিল ও বাতিলের অভিযোগ আনেন চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
৩০ আগস্ট টেন্ডার গ্রহণ করায় এনসিটির টেন্ডারে আনীত বিভিন্ন সংশোধনীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। এ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন, গোলটেবিল বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বর নগরীর লালদীঘি মাঠে সমাবেশেও করেন তিনি।
নথিপত্রে দেখা যায়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে সম্ভাব্য সাড়ে ১৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে টার্মিনাল পরিচালনা এবং ২০ বছর পর যন্ত্রপাতিসহ হস্তান্তর ভিত্তিতে প্রথম এই টার্মিনালের দরপত্র আহবান করা হয়েছিল ২০০৯ সালে জুলাই মাসে।
চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র বিক্রিও করা হয়। কয়েক দফা পিছিয়ে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দরপত্র দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। এরপর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এক সভার মাধ্যমে এই দরপত্র স্থগিত করে।
নতুন করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাকযোগ্য করা হয়। এর মধ্যে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মূল্যায়ন কমিটির তিন সদস্যের আপত্তি ছিল।
গত আড়াই বছর ধরে এই দরপত্রের ১২ টি শর্ত শিথিল ও বিলুপ্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থমন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি-পিপিপি কার্যালয়, প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইআইএফসি-কারও মতামত আমলে নেওয়া হয়নি।
অর্থমন্ত্রণালয়সহ এই তিনটি সংস্থা যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত দরপত্র স্বচ্ছ করতে লিখিতভাবে নানা মতামত দিয়েছে। কিন্তু এসব মতামত মানা হলে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে যোগ্য হতে পারবে না-এমন আশংকায় নৌ-মন্ত্রণালয় এসব মতামত বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাছাই করা ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাচিনসন পোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারি রয়েছে। দেশীয় সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের সঙ্গে একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ৩০ শতাংশ অংশীদারী রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১২
এমইউ/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর