সিলেট: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশী নির্যাতনে একটি মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে।
এতে হামলার শিকার হয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাব্বীর আহমদ ও মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবু জাফর মোহাম্মদ রায়হান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশ জকিগঞ্জ উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
প্রত্যক্ষদশী সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে সমন্বয় সভা শেষে জাতীয় পার্টির কয়েকজন কর্মী মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবু জাফর মোহাম্মদ রায়হানের ওপর হামলা চালায়।
এ খবর পেয়ে যুবলীগের কর্মীরা জড়ো হয়ে এসে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ঘেরাও করে ভাংচুর শুরু করলে আহত হন জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাব্বীর আহমদ।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠায় উপজেলা সদরে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ। হামলাকালীরা লুটপাট চালায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে, উপজেলা সমন্বয় সভায় আবু জাফর মোহাম্মদ রায়হান উপজেলা চেয়ারম্যান শাববীর আহমদ ও পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন সোনা উল্লার বিরুদ্ধে অনিয়মের কিছু অভিযোগ আনেন।
একইসাথে গত সপ্তাহে পুলিশী নির্যাতনে জকিগঞ্জে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে দাবি করে যুবলীগের একপক্ষ এবং আওয়ামী লীগের একাংশ ও জাতীয় পার্টি একপক্ষ হয়ে মুখোমুখি আন্দোলনে নামে।
এ জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপার জাতীয় পার্টির হামলার শিকার আবু জাফর মোহাম্মদ রায়হান বাংলানিউজকে জানান, পুলিশী নির্যাতনে তার পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন কসকনপুর ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী আব্দুল খালিক নিহত হলে তিনি ও যুবলীগ উপজেলা আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দেলনের প্রেক্ষিতে গত রোববার থানার ওসি ও এক এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়।
তিনি আরো জানান, কিন্তু এ আন্দোলনের বিরোধী পক্ষ হয়ে ওঠেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাব্বীর আহমদ ও পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের একপক্ষের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সোনাউল্লাহ। এই ঘটনার জের ধরেই জাতীয় পার্টির কয়েকজন কর্মী ও আওয়মী লীগের একাংশ তার ওপর হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ চেষ্টা হলে জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের নম্বরে একাধিকবার ফোন গেলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে জকিগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সোনাউল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আবু জাফর মোহাম্মদ রায়হানের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।
তবে তার দলের কেউ হামলা করেনি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৪ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০১২
এসএ/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর