 |
রেইনবো দেয়নেওয়ালাদের তিনটা স্মৃতি
১.
কিছুদিন আগে প্রিয় বোনটি আমার,
কেঁদে কেঁদে ক’ল এক করুণ কাহিনী।
জন্মিনি তখন আমি অনেক আগেতে–
তারিক নামেতে এক প্রতিবেশী ছিল,
শরীরের চেয়ে যার মাথা ছিল বড়।
কেবা জানে কোন এক অজ্ঞাত কারণে,
কাঁদামাঠে বল নিয়ে গড়াগড়ি খাওয়া
ভূতের বাড়ীতে যাওয়া দুরুদুরু বুকে
দামাল ছেলেরা মিলে দলাদলি করা
আম চুরি লিচু চুরি ঘুড়ি কাটাকাটি
এ সকল আকর্ষণে মজেনি তারিক।।
বারে বারে ঘুরে ফিরে বাড়ী থেকে ফাঁক পেলে আমার বোনের কাছে আসত তারিক।
তাহার জামার কোণ ধরে মৃদুস্বরে
“খেলবি আমার সাথে?” শুধাত তারিক।
কেবা জানে কোন এক অজ্ঞাত কারণে,
মৃদুস্বরে ঝাড়ি দিয়ে বোনটি আমার
“ভাগলি এখান থেকে?” বলত তাহাকে।
মিনিট পাঁচেক পরে শরমের মাথা খেয়ে পুনরায় ফিরে এসে ছোট্ট তারিক
জামার কোণাটা ধরে আবার শুধাত,
“আমার সাথে কি তুই খেলবিনা আর?”
এমনই অদ্ভুত ছিল তাদের বন্ধুত্ব ।।
একদিন সকালেতে ঘুম থেকে উঠে
শুনে বোন
ছোট্ট তারিক আর নাই পৃথিবীতে,
শরীরের চেয়ে তার মাথা ছিল বড় ।।
২.
কিছুদিন আগে আমি গিয়াছিনু মোর বড় ভগ্নীর বাড়ীতে
বাড়ী না বলিয়া তাকে বাসা বলা ভাল ।
অ-কার যেমতি ডেকে আনে আ-কারেরে,
ভগনী সেরূপে দুই ভাগনী এনেছে—
আমা থেকে সেই আমি মামা তো হয়েছি ।।
বাসার সম্মুখে দুই কলাগাছ ছিল,
গিয়ে দেখি
আমার বোনটি তার ফুলের মতন দুই কণ্যাকে নিয়ে
সেই কলাগাছ দু’টি কাটিয়া ফেলেছে ।
উঠানে লাফাতে থাকা বড় ভাগনীকে
শুধালাম মুই, গাছ কেন কাটিয়াছ?
সে বলিল
এক লোক গাছ দিয়ে জুতা যে বানাবে ।
কয়েক মিনিট পরে কলাগাছ কর্তনের আসল হেতুটি
কানে কানে বলে গেল বোনটি আমার,
মশা নাকি বড় বেশি জ্বালাতন করে ।।
৩.
কিছুদিন আগে আমি চা ও সিগারেট খেতে দুপুরবেলায় হেঁটে গেসিলাম মিন্টুর দোকানে।
মিন্টুর দোকান নয় প্রকৃত প্রস্তাবে সেটা তার পিতা, গুম্ফধারী আকবর মামার দোকানে।
মিন্টু মিয়া উত্তেজিত উসখুশ করে খালি; প্রকৃতি ডেকেছে তারে কিছুখন পরে বুঝিলাম।
ছোট এক মিষ্টি মেয়ে বয়স বছর ছয় মিন্টুর ভগিনী হয় মনে হয় আঁখি তার নাম।
দোকানে বসিয়ে তাকে হাগা বা মুতার তরে দ্রুতবেগে সাইকেলে মিন্টু মিয়া বাড়ী চলে গেল।
রিকশাচালক এক দোকানে আসিয়া বলে ‘মাহাজন,পান দাও’ আমি উপভোগী কাণ্ডখানা।
কৌতুকে তাকিয়ে রই পিচ্চি মেয়ে দৃঢ় স্বরে সহজে স্বীকার করে ‘পান আমি বানাতে পারিনা।
এরপর পুচ্চি মেয়ে উনার ডিরেকশনে বানাতে বসিল পান মুখখানি হাসি-হাসি করে ।
পানটি বানাতে গিয়ে নানান মজার কীর্তি ঘটাল সে; এরপর লোকটি চাইল সিগারেট ।
মিনিট পাঁচেক ধরে অনেক সাধনা করে প্যাকেট খোলার চেষ্টা করিয়া সে হাল ছেড়ে দিল।
রিকশাচালক ছিল আমিও ছিলাম বটে আঁখির সমান এক ছোট ছেলে, সেও হাসছিল।
আরও ছিল একজন কিশোর শ্রমিক এক বয়স এগারো-বারো দেখছিল আর ভাবছিল।
বয়স বাড়িয়া গেলে
ভেতরের শিশুটিকে
কেন মোরা গলা টিপে
খুন করে ফেলি?
বিস্ময় মে বি গেসেগা আমার
বেশ কিছুদিন ধরে আমার কী-বোর্ডটির আশ্চর্যবোধক চিহ্ন আশ্চর্যজনকভাবে
কাজ করে নাকো,
যান্ত্রিক এ ত্রুটিতে আমার নেটীয় স্বত্তা আপন বিস্ময়বোধ প্রকাশে অক্ষম।
অবাক হবার সে যে ক্ষমতা খুইয়েছে।
এহেন পঙ্গুত্ত্বে মুই খুব বেশি প্রবলেম ফেস তো করিনা।
বয়স বেড়েছে বটে নানা মানবিক বোধ ক্রম হ্রাসমান।
মানুষ মরিলে কিম্বা পয়দা করিলে কেউ,
মুখোশ খুলিলে কারো, বেদনা হইলে গাঢ়,
শত ফুল ফুটে যদি কারো পাছা থেকে গদি যদি সরে যায়-
অবাক হইনা আমি অবাক হবার মুই ক্ষমতা খুইয়েছি।
নেহায়েত দরকারে অভিনয়ে বিনিময়ে বিস্ময়বোধক চিহ্ন কপি-পেস্ট করি।
এভাবেই
আমি কাম সারি।
জানিনাকো এ চুরিতে কপিরাইট আইনখানা ভাঙা হয় কিনা।।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০২ ঘণ্টা, ০৩ জুলাই, ২০১২