 |
| ছবি: পিআইডি |
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। রোববার রাত ৯ টা ২০ মিনিটে তিনি এমিরেটস এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। রাশিয়ার সেন্ত পিতার্সবুর্গ (সাবেক লেলিনগ্রাদ) শহরে আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। এরপর বেলজিয়াম ও জাপান সফরে যাবেন তিনি। তিনটি দেশে মোট ১২ দিনের সফর শেষে ২ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন তিনি।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পদ্মা সেতু নির্মাণে জাপানের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা।
সফরকালে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাকি আলোচনা হবে। এসময় ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন চুক্তিসহ কয়েকটি চুক্তি স্বারের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ১২ দিনের সফরের মধ্যে পাঁচ দিন জাপান সফর করবেন। তার জাপান সফর শুরু হবে ২৮ নভেম্বর। এই সফরে তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণে জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস চাইবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বাংলানিউজকে জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে প্রথমে আবুধাবি এরপর লন্ডন হয়ে ২২ নভেম্বর বিকেলে রাশিয়ার (সেন্ত পিতার্সবুর্গ (সাবেক লেনিনগ্রাদ) পৌঁছবেন। সেখানে অনুষ্ঠেয় টাইগার সামিটে অংশ নেবেন তিনি।
২৩ নভেম্বর রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাওয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
শেখ হাসিনা সেখানে ‘বাঘের নৈসর্গিক আবাস’-এর ওপর উচ্চ পর্যায়ের এক সেমিনারে ভাষণ দেবেন।
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সৌজন্যে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে শেখ হাসিনা যোগ দেবেন। তিনি সেন্ত পিতার্সবুর্গে বাংলাদেশের অনারারি কনস্যুলার জেনারেল অফিস পরিদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ নভেম্বর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে ব্রাসেলসের উদ্দেশ্যে সেন্ত পিতার্সবুর্গ ত্যাগ করবেন।
ব্রাসেলসে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ভ্যান রমপাই, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হোসে মানুয়েল বারোসো এবং বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ইউভেজ লিতেমির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২৬ নভেম্বর বিকেলে বেলজিয়াম প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি সংবর্ধনা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৭ নভেম্বর জাপানের পথে ফ্রাঙ্কফুর্ট-এর উদ্দেশ্যে ব্রাসেলস ত্যাগ করবেন। পরদিন তিনি জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন।
জাপানে পাঁচদিনের সরকারি সফরকালে শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান-এর সঙ্গে বৈঠক এবং সম্রাট আকিহিতোর সঙ্গে দেখা করবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানে একাধিক বিনিয়োগ-সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। তিনি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যাংকের (জেবিআইসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।
শেখ হাসিনা হিরোশিমার পিস পার্কে এক সভায় ভাষণ দেবেন এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
রাশিয়া, বেলজিয়াম ও জাপান সফর শেষে আগামী ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদ ও ড. মশিউর রহমান, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম এ করিম, তথ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৫ ঘণ্ট, নভেম্বর ২১, ২০১০