 |
| ছবি: রুবেল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: রাজধানীর আগারগাঁও মহিলা পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রীদের আন্দোলনের ছবি তুলতে গেলে তিন ফটো সাংবাদিককে বেধড়ক লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শহিদুল ইসলামসহ ১০ পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টায় ফটো সাংবাদিকদের ওপর এ পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- জাহিদুল করিম সেলিম, সাজিদ হোসেন ও খালেদ সরকার। এরা সবাই দৈনিক প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক।
আহত ফটো সাংবাদিক সাজিদ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, পলিটেকনিক মহিলা কলেজে ছাত্রীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন চলছিল। সে আন্দোলনের ছবি তুলতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেপরোয়া লাঠিপেটা করে।
তিনি আরও জানান, ওই সময়ে আমাদের আরও তিন ফটো সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থতি ছিলেন। তারা আমাকে বাঁচাতে এলে তাদেরও পুলিশ বেধড়ক পেটায়। আর এ হামলায় নেতৃত্ব দেন ডিএমপির তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শহিদুল ইসলাম।
সাংবাদিক পরিচয় দিলেও শহিদুল সাংবাদিকের বাপ দাবি করে বলেন, ‘আমি অনেক সাংবাদিক দেখেছি, অনেক সাংবাদিক মেরেছি তুই কে?’ বলে তিনি আমাদের মারতে থাকেন, বলে জানান তিনি।
সাজিদ বলেন, ‘এরপর শহিদুল আমাদের পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ে মামলা দেওয়ার জন্য তার সহোযোগীদের নির্দেশ দেন এবং আমাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে শেরে বাংলানগর থানায় নিয়ে আসেন।’
এদিকে আহত অবস্থায় শেরে বাংলানগর থানা থেকে তাদের রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
দুপুর সোয়া ২টায় ফটো সাংবাদিকদের পেটানোর ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শহিদুল হক ও তার আনান্য সহোযোগিদের প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তেজগাঁও জোনের ডিসি ইমাম হোসেন।
প্রত্যাহার করা অন্যান্য পুলিশ হলেন- এসআই জাহির, এএসআই শফিক, এএসআই নাজমুল, কনস্টেবল মতিউর, রাজ্জাক, শাজাহান, জয়নাল, রতন ও জাহাঙ্গীর।
ইমাম হোসেন জানান, সাংবাদিককে পেটানো দুঃখজনক, একজন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনে কাজ আশা করা যায় না।
বাংলাদেশ সময় : ১৮১৭ ঘণ্টা, মে ২৬, ২০১২
আইএম/সম্পাদনা : বেনু সূত্রধর ও ওবায়দুল্লাহ সনি, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর