তোমাকে কিংবা রুমাকে খুঁজতে গিয়ে
আজিজ মার্কেট আমাকে চিনলো না। মনে করলো- এ কোন আগন্তুকের আগমন? যে প্রিয় কাককে নিয়ে ছবি এঁকেছিলাম, বিদ্যুৎ তার থেকে তারাও বিরক্ত প্রকাশে কা কা করে কুড়িয়ে খায় কাঁকড়, নেড়ি কুকুর ঘেউ ঘেউ ধমক দিয়ে রাস্তার রাজা হয়ে খুঁজতে থাকে পাগল। একটি মাইক্রোফোন আর টিভি ক্যামারাও ছুটলো তার পিছু পিছু!
শাহবাগ আমাকে চিনলো না! আমার চির চেনা শহরে আমি অচেনা অতিথি? জোছনায় ভেজা, কামিনীফুলের সুবাস ছড়ানো নগরের অদ্ভূত সেই নম্র নির্জনতা-নিরিবিলিগুলো কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে চাঙ্কার পুলের ইতিহাস মতো, মসলিনের মৃত্যু মতো। ঢাকা শহর ঢাকা পড়ে গেছে জটিলতায়। এ শহর আমার শহর নয়; অন্য কোনো নাড়ী!
ট্রাকের চাকার নিচে থেতলে থাকা চ্যাপ্টা বিড়ালের মতো খালঝিলগুলো নির্মিতব্য ভবনের পায়ের তলায় প্রত্নতত্ত্বের উপমায় বিলুপ্ত জীবন। আমার পায়ের শব্দে কেঁদে উঠলো খালঝিলের কংকাল। আর সেই সব হাইরাইজ বিল্ডিং আমাকে লিলিপুট ভেবে আকাশ থেকে তাকিয়ে উপহাসে মুচকি মুচকি হাসলো!
পুরুনো বিলবোর্ড চোখ ফিরিয়ে নিলো আর ডিজিটাল বিলবোর্ডও সন্দেহচিহ্ন চোখে রেখে পাল্টে ফেললো পরবর্তী স্লাইট। খালঝিলগুলো রাতদিন আড্ডা দেয়ার জায়গাগুলো এখন লীগদলের দখলে। আমরা সেখানে কবিতা পড়তাম, খালি পেটে চা খেতাম- সেই স্মৃতিগুলো পাখি হয়ে এলো, চলে গেলো অভিমানে।
আজিমপুরের কবরের মানুষগুলো এদের চেয়ে অনেক ভালো। তারা আমাকে চিনে স্বাগতম জানালো। কিন্তু পল্টনের মোড় চশমা খুলে তাকালো, না দেখার ভান করে চলে গেলো দোতলা বাস। যে লেটার প্রেসে হ্যান্ডকম্পোস করে আমরা লিটিল ম্যাগ করতাম, সেই প্রেস এখন আইসিসিইউতে নাকি কোমায় ঘুমিয়ে আছে।
ভ্রমণ কাহিনীর চরিত্রে নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হলো। মন খারাপ করে রমনা পার্কে ঢুকতেই গাছগাছালির পাতাগুলো নড়ে উঠলো। শীতল ছায়ায় জড়িয়ে নিলো ভাইগাছ, বোনগাছ। বিষন্ন মন মিশে গেলো বৃক্ষবন্ধুদের ভালোবাসায়।
রিলেশনশিপ
লজ্জাপতি আর কচ্ছপের রিলেশনশিপের কথা তারা নিজেরাও জানেনা।
জিওগ্রাফি চ্যানেলে গাছগাছালি প্রাণীকূলের সেমিনার, মহা উৎসব
বনভোজনে পিকনিক পিকনিক ভাব, ধুমধাম। ধুমধামের বাইরে
জিওগ্রাফি চ্যানেলের আড়ালে চলে যায়...
...লজ্জাপতির গাছ আর কচ্ছপ।
একটু স্পর্শেই লজ্জাপতির লাজুক পাতা ঘুমিয়ে পড়ে,
আর কচ্ছপ তার মন মাথা মুখ হাত পা লুকিয়ে ফেলে নিজের ভেতর!
মুখস্থনীতি
“বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
খোদার আসন “আরশ” ছেদিয়া
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!”
-কাজী নজরুল ইসলাম
তোমার নেশায় অদ্ভূত এক আকর্ষণে বাষ্প হয়ে উঠি
যাই পেয়ে যাই মেঘের পাখা, নেশার দেশে ভেসে ভেসে ছুটি
ছুটতে ছুটতে উড়তে উড়তে ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে যাই স্বর্গে।
তোমার শরীর ঠিক যেনো এক সুরে ঘেরা হারমোনিয়াম, মন্ত্র
দশ আঙ্গুলের স্পর্শ-ছোঁয়ায় বাজতে থাকো সারেগামা যন্ত্র...
বাজাই তোমার প্রশাখা আর শাখা শেকড়। করলে প্রিয় পরকে।
সুরের ছোঁয়া পাঁপড়ি মেলো, গ্রন্থের মতো দাও খুলে দাও পৃষ্ঠা
তৃষ্ণার্থতায় মুগ্ধ হয়ে পাঠ করি সেই স্বরলিপি নিবেদিত, নিষ্ঠা
অগ্নিনদ আজ যায় মিশে যায় তোমার গভীর সাত সাগরের জলে।
একটি জাহাজ ঝড়ের ভেতর যায় তলিয়ে অনল তলে ডুবে
ডুবতে ডুবতে সাগর তলায় প্রত্নতত্ত্বে মাটির সাথে শুবে!
এই যে নেশা, হারমোনিয়াম, গ্রন্থগোলাপ, জ্বলন্ত মোম গলে!
দ্বৈতনীতি
এক পাশে শরীর, স্বাগতম # অন্য পাশে ছায়া, দেশান্তরী
এক দিকে বাস্তব, ধ্রুবতা # অন্য দিকে ভার্চ্যুয়েল বৃষ্টি
এক দিকে অন্ধকার, আনন্দ # অন্য দিকে দূরদেশের সূর্য
বৃত্তের ভেতর শত্রু # বৃত্তের বাইরে নিজ নিবাস।
এক পাশে দৃশ্যমান, ধর্মান্ধতা # অপর পাশে অদৃশ্য, ফতোয়াবাজি
এক দিকে ফিজিক্যাল ফুল # অপর দিকে ম্যান্টাল মুদ্রণ
এক দিকে ভোগ, আকর্ষণ # অপর দিকে প্রার্থণা, পুঁজো
গোলাপ দিচ্ছো... # গোলাপ দিচ্ছে।
এক পাশে ফাঁকা ফুচকা # অন্য পাশে কবিতা
এক দিকে উদার, উজাড় # অন্য দিকে না, নিষেধাজ্ঞা
অমরতায় তৃপ্ত # বিষ-বিচ্ছু, দ্বৈতনীতি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬০৫ ঘণ্টা, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২