 |
ঢাকা: ১৮ দলীয় জোটের সোমবারের সমাবেশকে ঘিরে দেশের অনেক স্থানে বিরাজ করছে হরতালের আমেজ। বরিশাল থেকে লঞ্চ এবং বগুড়া থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক নেতাকর্মী সংগঠিত হয়েও সমাবেশে যোগ দিতে পারছে না।
এছাড়া বেশ কয়েকটি জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বহন করা গাড়ি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী দলের নেতাকর্মীরা আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। কোথাও কোথাও ভাড়াচুক্তি বাতিল করতে বাস মালিকদের চাপ দেওয়া হয়।
এর আগে রোববার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ, র্যাব ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা। ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দুই হাজার ২০৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জনসভায় আসা কোনো নেতাকর্মীকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে জনসভাকে সামনে রেখে সুবিধাবাদীরা যেন কোনো অঘটন ঘটাতে না পারে এজন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু সন্দেভাজন লোককে আটক করা হয়েছে।”
বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, “জনসভায় লোকসমাগমকে বাধাগ্রস্ত করতে, সারাদেশে গণগ্রেফতার চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা আসার যানবাহন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
রোববার রাতে বিএনপি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ১১ জুনের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অহেতুক তল্লাশির নামে হয়রানি এবং ঢাকা অভিমুখে বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহনে তল্লাশি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরে দলের ২৫ নেতাকর্মী, গাজীপুর জেলায় ১৬ ও খুলনা জেলা ও মহানগরে ১৮ জনসহ সারা দেশে অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে ১৮ দলীয় জোটের সোমবারের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশকে রোববার থেকেই সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে রাজধানীর সব প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের একটি বিশেষ সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৬টা থেকে রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রত্যেকটি প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজধানীর গাবতলী, সায়দাবাদ, আব্দুল্লাহপুরসহ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও রাজধানীর অন্যান্য প্রবেশমুখে সতর্ক প্রহরায় নিয়োজিত আছে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, “লিখিতভাবে না হলেও, এরই মধ্যে পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ, পুলিশের বিশেষ শাখা, ডিকেটটিভ ব্রাঞ্চের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রোববার সন্ধ্যা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তাদের সঙ্গে আছে র্যাব ও আর্মড পুলিশ।
পুলিশের একটি বিশেষ সূত্র জানায়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধংসাত্মক কর্মকাণ্ড না ঘটাতে পারে সেজন্যই এই সতর্ক অবস্থান।
সমাবেশে নজরদারি করতে দুপুর বারোটার মধ্যেই নয়াপল্টনের সমাবেশস্থলের আশেপাশের সুউচ্চ ভবনগুলোর ওপর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুইলার নিয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সমাবেশস্থলে ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। সমাবেশস্থলে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর জন্য দায়িদের সহজেই সনাক্ত করার সুবিধার্তেই এ পদক্ষেপ।
এদিকে ১৮ দলীয় জনসমাবেশকে ঘিরে রাজাধানীতেও দেখা দিয়েছে তীব্র গাড়ি সংকট। ফলে সকালে লোকজনকে হেঁটেই অফিস আদালতে যেতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ সময়: ০৯২৩ ঘণ্টা, জুন ১১, ২০১২
সম্পাদনা: ওবায়দুল্লাহ সনি, নিউজরুম এডিটর/এমএমকে