20120709154131.jpg) |
চট্টগ্রাম: আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ও গ্যেটে ইনস্টিটিউটের আয়োজনে চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে হয়ে গেল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধনে অন্য রকম অনুষ্ঠান ‘ডান্স ইন রেসোনেন্স’ বা অনুরণনে নৃত্য।
ফরাসি কোরিওগ্রাফার সামির আকিকা ও জার্মান নৃত্যশিল্পী অ্যান্ডি জনডাগের পরিচালনায় নতুন ধারার ভিন্ন আমেজের এ অনুষ্ঠানে চোখ ধাঁধানো পরিবেশনা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন হাজারো দর্শক। এরমধ্যে আমন্ত্রিত দর্শক হিসেবে ছিলেন নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতিয়ে রাখে প্রশিক্ষিত ৮ জোড়া তরুণ-তরুণী। এরমধ্যে ছিলেন চট্টগ্রামের হানিফ, মুনির, অমিত, বান্দরবানের মং এবং ঢাকার বিজু, ইমরান, নয়ন, আসিফ, ইভানা, তাতৈই, রূবাসা, জেসিকা, অর্থি, আনহা, রিমু ও লাবণ্য। তারা ঢাকার সাধনা, জাগো আর্ট সেন্টার ও মায়াবী ডান্স গ্র“পের শিল্পী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক স্যামুয়েল ব্যর্থে ও সাধনার কর্মকর্তা লুবানা মরিয়ম।
সচরাচর ঢালাও নৃত্যানুষ্ঠানের বৃত্ত ভেঙে পরিবেশনার অনুষঙ্গ হিসেবে সংযোজিত ছিল আত্মপরিচয়, স্বপ্ন, প্রত্যাশা, পরিকল্পনা, প্রত্যয় ইত্যাদি তুলে ধরার ব্যবস্থা। মূলত নৃত্যশিল্পীদের চারপাশের নানা আর্থসামাজিক সমস্য-সংকট, প্রেক্ষাপট ইত্যাদি ঘুরে ফিরে আসে বারে বার।
চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ ঘোষ অনুষ্ঠান দেখে বের হওয়ার সময় বাংলানিউজ প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, ভালো আয়োজন। ভেবেছিলাম শিল্পীদের সঙ্গে আলাপ করে যাব। কিন্তু জরুরি কাজ থাকায় চলে যেতে হচ্ছে।
ইভটিজিং, নারী স্বাধীনতা, সমানাধিকার, ছেলে মেয়ে দ্বন্দ্ব, জীবনসঙ্গী পছন্দে পরিবার বনাম নিজের চাওয়া-পাওয়া, চারপাশের প্রতিবেশ-পরিবেশসহ নানা চরিত্র, জীববৈচিত্র্য, সড়ক দুর্ঘটনা, সামাজিক অবক্ষয় ইত্যাদি বিষয়ে জোরালো-সাহসী ও স্বাধীন মতামত উঠে আসে শিল্পীদের কণ্ঠে। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ, কক্সবাজার সৈকতের অব্যবস্থাপনা, ফেরিওয়ালা-ভিক্ষুক-রিকশাওয়ালা-পথশিশু-বাইকচালক বিবিধ বিষয় যে নাচের বিষয় হতে পারে অনেকের হয়তো আগে ভাবতেও পারেননি।
নাচের ফাঁকে ফাঁকে নৃত্যশিল্পীরা পরিবেশন করেন মজার কিছু কৌতুক আর গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ডের কথোপকথন।
নৃত্যশিল্পী অনন্য বড়–য়া অকপটে বাংলানিউজকে জানালেন, চট্টগ্রামের জন্য এটি একটি নতুন ধরনের অনুষ্ঠান। নাচের কোরিওগ্রাফি যে একটি আনন্দের বিষয় হতে পারে, নাচে যে জীবনের নানা বৈচিত্র্য অধ্যায় উঠে আসতে পারে তা দেখেছি আমরা। এতে তরুণেরা নাচের প্রতি আগ্রহী হবে। অনেকে মনে করে নাচ মেয়েদের বিষয়। গতানুগতিক নাচের বাইরে যে ফিউশন দেখলাম তা আসলেই উপভোগ্য। আসলে এ ধরনের আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব।
কোরিওগ্রাফার সামির আকিকা ফরাসি-জার্মান তহবিলে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমীর মহড়া কক্ষে সমসাময়িক নৃত্যের ওপর পরিচালিত কর্মশালা ও অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সামির আকিকা বলেন, ‘একজন ফরাসি মা ও একজন আলজেরিয়ান বাবার সন্তান হিসেবে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার ইতিহাসের মিল আমাকে বিশেষ ভাবে মর্মস্পর্শী করেছে, যেহেতু আমাদের উভয় জাতিকেই স্বাধীনতার জন্যই লড়াই করতে হয়েছে। নাচ একটি নমনীয় মাধ্যম যা অভ্যন্তরীণ আবেগের সাথে সাথে বহির্বিশ্বের সংযোগ ঘটায় এবং এটাই নাচের সৌন্দর্য। এ অনুষ্ঠানে নৃত্যের সাথে মঞ্চে নাটকের উপাদানও উপস্থিত ছিল। আমি চেয়েছি শিল্পীরা যেন নারী-পুরুষের সম্পর্ক, পরিবেশ প্রভৃতি সামজিক বিষয়ের অভিব্যক্তি প্রকাশ করুক।’
অনুষ্ঠানের পরিবেশনা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, এটা হচ্ছে বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য নিজের ঐতিহ্য থেকে ছুটি নিয়ে মাঝেমধ্যে অন্যের ঐতিহ্য নিয়ে মনোযোগী হওয়ার মতো, যেমনটি নিজের বাড়ি ফেলে অন্যের বাড়িতে মানুষ বেড়াতে যান।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘণ্টা, ৯ জুলাই, ২০১২
সম্পাদনা : বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক