চট্টগ্রাম: নিজের গড়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) ক্যাম্পাসে শনিবার জাতীয় অধ্যাপক ডা. নূরুল ইসলামকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রখ্যাত এই চিকিৎসকের মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ডা. নূরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল জব্বার।
তিনি জানান, শুক্রবার বাদ জুমা দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নূরুল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর মরদেহ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরেক দফা জানাজা শেষে মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে বিমানে করে চট্টগ্রামে নেয়া হবে।
তিনি বলেন,‘ প্রথমে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের মোহম্মদপুরে স্যারের (ডা. নুরুল ইসলাম) গ্রামের বাড়িতে কফিনটি নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে চট্টগ্রামে আরও দু’টি জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিজের প্রতিষ্ঠা করা ইউএসটিসি ক্যাম্পাসের গুলমেহের হলের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। সেখানে তার স্ত্রীকেও সমাহিত করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবন ‘গুলমেহের’ এ অসুস্থ হয়ে পড়লে অধ্যাপক ডা. নূরুল ইসলামকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত পৌঁনে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইউএসটিসির নিবন্ধক প্রফেসর সামস-উ-দ্দোহা বাংলানিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বঙ্গবন্ধুর এই ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
ব্যক্তিগত জীবনে ডা. নুরুল ইসলাম এক ছেলে ও দু’মেয়ের জনক। ছেলে তার প্রতিষ্ঠিত জনসেবা ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি। মেয়ে ডা. দীনা ইসলাম চিকিৎসক এবং মিনা ইসলাম একজন প্রকৌশলী।
তামাকমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ডা. নুরুল ইসলাম গড়ে তোলেন ‘আধূনিক’ (আমরা ধূমপান নিবারণ করি) সংগঠনটি। এজন্য তাকে দেশে ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ বলা হয়ে থাকে।
নুরুল ইসলাম ১৯২৮ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৫১ সালে কলকাতা থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রের ডিগ্রি নেন তিনি। পরে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অধ্যাপনা ও চিকিৎসা পেশায় নিযুক্ত হন।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. নূরুল ইসলাম ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) কর্মরত ছিলেন।
জনকল্যাণমূলক নানা কাজের স্বীকৃতি হিসেব বাংলা একাডেমী এবং স্বাধীনতা পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি সম্মাননা পেয়েছেন পিজি হাসপাতালের সাবেক এই পরিচালক।
এদিকে প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউএসটিসির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বাংলাদেশ সময়: ১০ ০৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৫, ২০১৩
এমবিএম/টিসি;