 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে মুলধনের ৪০ শতাংশ বিনিয়োগের বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হলে আরও ১৯ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ পাবে ২৯ ব্যাংক। বর্তমানে ২০১০ সালের পর থেকে বিনিয়োগে অনিহা দেখিয়ে আসা ব্যাংকগুলোর মোট দায়-এর মাত্র ৭ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো মোট আমানতের ১০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। সে অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯ টি ব্যাংকের মোট আমানত রয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আইনানুযায়ী বাজারে তাদের ৩৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও রয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগের পরামর্শ দেয়। এতে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়। এরই প্রেক্ষিতে সরকার ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সংশোধনীতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব করেছে।
এ ব্যাপারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন জানান, শুধু পরিশোধিত মুলধনের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ হলে বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ অনেক কমে যাবে। এজন্য অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ক্যাপিটালের ৪০ শতাংশ বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এর সঙ্গে ব্যাংকের রিজার্ভ ও ইক্যুইটি যোগ হবে। ফলে আইন সংশোধন হওয়ার পর বিনিয়োগ বাজারে বর্তমানের চেয়ে বিনিয়োগ আরও বাড়বে। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ করার বিষয়ে এসইসির মতামত চাওয়া হয়েছিল। এসইসি এ সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেছে।
এদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ সেপ্টেম্বরের বিনিয়োগ তথ্য থেকে দেখা যায়, এবি ব্যাংকের বর্তমানে মোট দায়-এর বিনিয়োগ আছে ২.০৮ শতাংশ বা ৩১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আইন সংশোধনের পর শুধু রিজার্ভ ও মুলধন অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারবে ৬শ’ কোটি টাকা। একইভাবে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ রয়েছে ১.২৩ শতাংশ বা ১৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আইন সংশোধনের পর বিনিয়োগ করতে পারবে ৩৯৩ কোটি টাকা।
ব্যাংক এশিয়ার বর্তমান বিনিয়োগ রয়েছে ১৭৭ কোটি টাকা, করতে পারবে ৫০৪ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ২০৬ কোটি টাকা, করতে পারবে ৩২৭ কোটি টাকা। সিটি ব্যাংকের বিনিয়োগ রয়েছে ৫৩৭ কোটি টাকা, করতে পারবে ৬৩৯ কোটি টাকা। ঢাকা ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ২৫৮ কোটি টাকা, করতে পারবে ৩৭১ কোটি টাকা। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে মাত্র ১৩ লাখ টাকা, করতে পারবে ৩৪৪ কোটি টাকা। ইস্টার্ন ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ২৩১ কোটি টাকা, করতে পারবে ৫৭৭ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৪৫৪ কোটি টাকা, করতে পারবে ৫৭৮ কোটি টাকা।
ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৫৫ কোটি টাকা, করতে পারবে ১৭৯ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৪৭ কোটি টাকা, করতে পারবে ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ১৯ কোটি টাকা, করতে পারবে ৭৩০ কোটি টাকা। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ২৩১ কোটি টাকা, করতে পারবে ৯৬৭ কোটি টাকা। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ১০৯ কোটি টাকা, করতে পারবে ১৯২ কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ১৭৫ কোটি টাকা, করতে পারবে ৪৬৪ কোটি টাকা। ওয়ান ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ২৯৫ কোটি টাকা, করতে পারবে ২৪৬ কোটি টাকা।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ২৭০ কোটি টাকা, করতে পারবে ৬৬৭ কোটি টাকা। প্রাইম ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৬৪ কোটি টাকা, করতে পারবে ৬৮২ কোটি টাকা। রুপালী ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৩৪১ কোটি টাকা, করতে পারবে ৬০৭ কোটি টাকা। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ১৯৪ কোটি টাকা, করতে পারবে ৩১৬ কোটি টাকা।
এসআইবিএলের বিনিয়োগ আছে ১৯২ কোটি টাকা, করতে পারবে ৩৭৪ কোটি টাকা। সাউথইস্ট ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৫৬৫ কোটি টাকা, করতে পারবে ৭৭৫ কোটি টাকা। স্টান্ডার্ড ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৩৯ কোটি টাকা, করতে পারবে ২৭৪ কোটি টাকা। ট্রাস্ট ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ৭২ কোটি টাকা, করতে পারবে ২৫৫ কোটি টাকা। ইউসিবিএলের বিনিয়োগ আছে ৮১ কোটি টাকা, করতে পারবে ৫৮০ কোটি টাকা। উত্তরা ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ২৫২ কোটি টাকা, করতে পারবে ৩৮৫ কোটি টাকা।
এদিকে, ২০১০ সালের ধসের পর থেকে শেয়ারবাজার মন্দা থেকে রেরিয়ে আসতে পারছে না। সরকারের পক্ষ থেকে বার বার ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হলেও তারা তাদের বিনিয়োগ বাড়ায়নি। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০টিরই বিনিয়োগ মোট দায়ের ৩ শতাংশের নিচে, যদিও তাদের ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি তারা বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকার জন্য নতুন আইন পাশের দোহাই দিচ্ছে। কারণ আইন পাশ হলে বিনিয়োগ কমাতে হতে পারে। তবে বর্তমানে বাজারে ব্যাংকের যে বিনিয়োগ আছে, তাতে নতুন আইনে বিনিয়োগ কমবে না, বরং বাড়বে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জানুয়ারি থেকে ব্যাংকগুলো আবার নতুন ভাবে বিনিয়োগে ফিরতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩১৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৭, ২০১২
জেএনএ/জেডএম