 |
ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়ন, হলমার্ক কেলেঙ্কারি ইস্যুতে অর্থমন্ত্রীর ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক মন্তব্য পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতু বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক মন্তব্য করার পরের দিনই পুঁজিবাজারের সূচকের ঊর্ধ্বগতি ও নিম্নগতির অনেকটাই মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।
গত ২৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংককে ফিরিয়ে আনতে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমঝোতার সব বাধা-বিপত্তি কেটে যাচ্ছে। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হবে।’’
এরপর থেকেই পুঁজিবাজার ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়। গত ২৬ আগস্ট ডিএসইতে সাধারণ সূচক ৪ হাজার ২৫৬ পয়েন্ট নিয়ে লেনদেন শুরু হয়। যা হলমার্ক ইন্স্যুতে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী হলমার্ক কেলেঙ্কারির বিষয়কে বড় ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেন। যা পরদিন অর্থাৎ বুধবার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর বুধবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচকের পতন হয় ১১১ পয়েন্ট।
মাঝে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়। গত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘পদ্মাসেতু হবেই, এর পরের কার্যদিবস অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বরে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সূচক কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
গত ২২ জুলাই অর্থমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে সরকার চারটি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানান মুহিত। প্রথম পথটি হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের বাতিল ঋণচুক্তি পুনর্বহাল। দ্বিতীয়টি অন্য তিনটি দাতা সংস্থা এবং নতুন কাউকে নিয়ে অগ্রসর হওয়া। তৃতীয় পথ হচ্ছে পিপিপির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন। আর সর্বশেষ বিকল্প প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু। তার এমন বক্তব্যের পরের দিন অর্থাৎ ২৩ জুলাই ডিএসই’র সূচক বাড়ে ৭৫ পয়েন্ট।
২২ জুলাইয়ের পর বেশ কিছুদিন পদ্মা সেতু বিষয়ে অথবা অন্য কোনো বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর তেমন ইতিবাচক-কিংবা নেতিবাচক বক্তব্য না থাকার কারণে বেশ কিছুদিন বাজার ছিল সমান্তরাল, খুব বেশি উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যায়নি।
দীর্ঘদিন পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তাদের মন্তব্য, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব মন্তব্যকে ইন্স্যু হিসেবে তৈরি করে বাজারে গুজব ছড়িয়ে পুঁজিবাজারের সূচক বাড়া-কমায় প্রভাব সৃষ্টি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘অনেকেই নানা ইস্যুতে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই গুজব ছড়ায়। তারা বলে বেড়ায় অর্থমন্ত্রী গতকাল যে কথা বলেছে এজন্য আজ বাজার ভালো হবে না। আবার অনেক সময় বলেন, ভাই অর্থমন্ত্রী গতকাল পদ্মাসেতুর বিষয়ে যে ভালো মন্তব্য করেছে তাতে আজ বাজার ভালো হবে।’’
এসব কারসাজিকারকদের অন্যায় প্রমাণ করা দুঃসাধ্য হওয়াতে এদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) অথবা কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না।
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আক্তার হোসেন সান্নামাৎ বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘দেশের অর্থনীতি পরিচালিত হয় অর্থমন্ত্রীর দ্বারা। আর পুঁজিবাজার ও অর্থনীতি একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।’’
‘‘তবে এ ধরনের মন্তব্যকে কাজে লাগিয়ে গুজব ছড়িয়ে যদি কেউ কোনো ধরনের অবৈধ সুবিধা নিতে চায় সে বিষয়েটিও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের খেয়াল রাখতে হবে। আর অর্থমন্ত্রী কোন প্রসঙ্গে কোন কথা বলছেন বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে’’- বলে মন্তব্য করেন ইউনিয়ন ক্যাপিটালের এমডি।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১২
এইচএমএম/ সম্পাদনা : নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর ও নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com