 |
পাবনা: সাংবাদিকতার গৌরব ও অহঙ্কারের নাম পাবনা প্রেসক্লাব। পাবনা তথা দেশের সাংবাদিকদের মুখ উজ্জ্বল করে এই ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব মঙ্গলবার ৫১ বছর পার হয়ে ৫২ বছরে পা রাখছে।
১৯৬১ সালের ১ মে পাবনা প্রেসক্লাবের গোড়াপত্তন ঘটে।
সেই থেকে অনেক স্মৃতি, নানা ইতিহাস ও গৌরবময় ঘটনার সঙ্গে পাবনা প্রেসক্লাবের নাম জড়িয়ে রয়েছে।
সারা দেশে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য ও সাংবাদিকদের একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও পাবনা প্রেসক্লাব সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
এই প্রতিষ্ঠান এখনও দেশের মধ্যে অখ- এবং ঐক্যর অন্যন্য নজির হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ২ দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
পদ্মা-যমুনা বিধৌত এবং ইছামতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা পাবনার জনপদে সাংবাদিকতার সূত্রপাত ঘটে উনিশ শতকের প্রথম দিকে। সাংবাদিকতায় লালিত এই ঐতিহ্যের ধারায় ষাটের দশকের শুরুতে তৃনমূল পর্যায়ের সাংবাদিকতা পেশার স্বীকৃতির দাবিকে সামনে রেখে ১৯৬১ সালের ১ মে পাবনা শহরে স্থাপিত হয় পাবনা প্রেসক্লাব।
পাবনা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘পাক হিতৈষী’র প্রকাশক-সম্পাদক, দৈনিক আজাদ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তানের পাবনা প্রতিনিধি একেএম আজিজুল হকের (বিএসসি ক্যাল) সভাপতিত্বে তার বাসা সানভিউ ভিলায় অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনিই (একেএম আজিজুল হক) পাবনা প্রেসক্লাবের প্রথম সভাপতি এবং সে সময়ের সংবাদ প্রতিনিধি শ্রী রণেশ মৈত্র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচত হন।
এ ছাড়া দৈনিক ইত্তেফাকের পাবনা প্রতিনিধি এম আনোয়ারুল হক, বিশিষ্ট চিকিৎসক মেজর (অব.) ডা. মোফাজ্জল হোসেন, শিক্ষক শহীদ মাওলানা কছিমুদ্দিন আহমেদ, ফটোগ্রাফার শ্রী হিমাংশু কুমার বিশ্বাস প্রমুখ অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। বর্তমানে পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৫৮।
পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মাশাল (অব.) একে খন্দকার, স্কয়ার গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরী, ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার মুহম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু পাবনা প্রেসক্লাবের সম্মানিত জীবন সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার বছর ৮/৯ মে পাবনায় অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সম্মেলন। যে সভা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পায় পূর্র্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সমিতি যা বর্তমানে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি হিসেবে পরিচিত।
সেই সম্মেলনের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকরা পেশার স্বীকৃতি তথা রিটেইনার, লাইনেজ, পোস্টাল চার্জ, টেলিগ্রাম চার্জ, ছবির বিলসহ অন্যান্য খরচ পাওয়া শুরু করেন। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়েই সেদিন সংবাদপত্রে মফস্বলে কর্মরত প্রতিনিধিদের পেশার স্বীকৃতি ঘটেছিল।
পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার পর একেএম আজিজুল হক পাবনা প্রেসক্লাবের প্রথম সভাপতি এবং সংবাদ প্রতিনিধি শ্রী রণেশ মৈত্র প্রথম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে এম আনোয়ারুল হক, মির্জা শামসুল ইসলাম, প্রফেসর আব্দুস সাত্তার বাসু, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, রবিউল ইসলাম রবি, অ্যাডভোকেট মুহম্মদ মহিউদ্দিন, অধ্যাপক শিবজিত নাগ, আব্দুল মতীন খান, এবিএম ফজলুর রহমান বিভিন্ন সময় এক বা একাধিকবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমান সভাপিত পদে অধ্যাপক শিবজিত নাগ ও সম্পাদক পদে আহমেদ উল হক রানা দায়িত্ব পালন করছেন।
পাবনা প্রেসক্লাবের অতীত ঐতিহ্য ও বিশাল ইতিহাস থাকলেও আজও পাবনা প্রেসক্লাবের নিজস্ব ভবন হয়নি। পরিত্যক্ত সম্পত্তির উপর গড়ে ওঠা এই ক্লাবটির শরীরে শীর্ণতা থাকলেও মর্যাদা ও আভিজত্যে এখোনো অটুট। সম্প্রতি ঐ পরিত্যক্ত ভবনেই একটি অত্যাধুনিক অফিস কক্ষ, ভিআইপি মিলনায়তন, সাধারন মিলনায়তন এবং লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক আহমেদ উল হক রানা বাংলানিউজকে জানান, ‘৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ১ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে কেক কাটা ও মিষ্টি মুখ।
এছাড়া আগামী ৫ মে বিকেল ৫টার দিকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত একেএম আজিজুল হকের নামানুসারে পাবনার কৃতি সাংবাদিকদের পদক প্রদান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশ সময়: ০৬২৫ ঘণ্টা, মে ০১, ২০১২
প্রতিবেদন: শাহীন রহমান
সম্পাদনা: শাফিক নেওয়াজ সোহান, নিউজরুম এডিটর