 |
ঢাকা: রোহিঙ্গা শরনার্থীদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) কাজ করে যাচ্ছে। শরনার্থী প্রত্যাবাসন পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য ব্যাংককে বৈঠক ডাকা হয়েছে। এরপর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে এ বিষয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার বিকেলে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সচিবালয়ে ইউএনএইচসিআর’র আঞ্চলিক প্রতিনিধি জেমস লিঞ্চ সাক্ষাৎ করে এ কথা জানান।
ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী রয়েছে। গত সাত বছর এদের প্রত্যাবাসনে কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ রয়েছে। নিজ দেশে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারাসহ অনেক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এসব বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সাথেও আলোচনা চলছে।
জেমস লিঞ্চ বলেন, মিয়ানমার সরকার আগে এসব বিষয়ে কোনও আলোচনা করতো না। বর্তমানে সে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। এ বিষয়ে মানবিক আলোচনাও চালাতে হবে। শরনার্থী প্রত্যাবাসন পদ্ধতি নিয়ে থাইল্যান্ডের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদেরও একটি বড় অংশ এদেশে জন্ম নিয়েছে। এসব বিষয়ও চূড়ান্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
এসময় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরনার্থীসহ যে কোনো শরনার্থী প্রত্যাবাসনে উৎস দেশ নিয়ে কাজ করতে হবে। কোন দেশ থেকে শরনার্থীরা কেন এসেছে, ইএনএইচসিআরকে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যাবাসন কর্মসূচি চালাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মিয়ানমার সরকারের মধ্যে বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে অনেক বিষয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে। মিয়ানমার সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করছি।
গত প্রায় ২০ বছর যাবত বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের মত একটি সীমিত সম্পদের দেশের জন্য দীর্ঘদিন এ ভার বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর। তবুও মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। রোহিঙ্গা শরনার্থীরা শুধুমাত্র বাংলাদেশের সমস্যা নয়। বর্তমনে এটা আন্তর্জাতিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ইউএনএইচসিআরকে কাজ করতে হবে। শরনার্থী প্রত্যাবাসনে উদ্যোগ নেয়ায় মন্ত্রী ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব ড. এম আসলাম আলম জানান, মিয়ানমারের নর্থ রাখাইন স্টেটের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চলমান মানবিক আলোচনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক সংলাপ অনুষ্ঠানের উদ্যোগে নেয়া হচ্ছে। এর আগে সিঙ্গাপুরে এ ধরনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০১২
একেআর