 |
ঢাকা: কেন্টে থাকলেও ফোনটা ধরে আশরাফুল বললেন হ্যালো কে? মোবাইলসেটের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নম্বর দেখে তিনি বুঝে গিয়েছিলেন দেশ থেকে কলটি এসেছে। সেজন্য কোন ভনিতা না করে বাংলায় বলতে শুরু করে দেন। অনেক দিন হয়ে গেছে আশরাফুল কেন্টের প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন। রান এবং উইকেট নিয়ে পুরোদস্তুর আলরাউন্ডার হয়ে উঠেছেন।
২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজের মাঝ পথে বিতর্কিত ভাবে আশরাফুলকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিলো। ঘটনা ফাঁস করে দেওয়ায় জরিমানাও গুণতে হয়েছিলো তাকে। অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন আশরাফুল। জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে তাকে ১৫ সদস্যের দলে নেওয়া হয়েছে। দল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যে বাংলানিউজের প্রতিবেদকের কাছ থেকে ফোনে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জেনেছেন আশরাফুল।
খবরটা পেয়ে বেশ খুশি হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক,‘ভালো লাগছে আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে পারবো। বিপিএলে আমার পারফরমেন্স ভালো ছিলো আর এখানেও মোটামুটি ভালো খেলছি। সে জন্য হয়তো দলে নিয়েছে।’
প্রধান নির্বাচক আকরাম খানও একই যুক্তি দিয়েছেন,‘আশরাফুল বিপিএলে ভালো খেলেছে। দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সব মিলে সে প্রথম চারজনের মধ্যে থাকে। সে জন্য তাকে আমরা জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য নিয়েছি।’
কেন্ট লিগে আশরাফুলের দলের এখনও বেশ কয়েকটি ম্যাচ বাকি। ২, ৪ ও ৬ জুন ম্যাচ খেলার পর তিনি দেশে ফিরে আসতে পারেন। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগও চায় আশরাফুল খেলা শেষ করে আসুক। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ বলেছেন,‘ওখানকার লিগ অনেক ভালো। সময় আছে তাকে বলবো ম্যাচ খেলে আসার জন্য।’
জাতীয় দলের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার আনামুল হক বিজয়ের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি। তারপরেও জাতীয় দলের সঙ্গে থাকতে পেরে খুশি। বলছিলেন,‘এশিয়া কাপের দলে ছিলাম, তখন খেলতে পারিনি। জিম্বাবুয়েতে আন্তর্জাতিক খেলা না হলেও জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বিদেশে যাবো, আমার কাছে এটা নতুন অভিজ্ঞতা। খেলার সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো অভিজ্ঞতাই নেওয়ার চেষ্টা করবো।’
প্রায় পাঁচ বছর পরে জাতীয় দলে ফিরলেন জিয়াউর রহমান। পেস বোলিং অলাউন্ডার এখন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হয়ে গেছেন। প্রাইম ব্যাংক ওল্ডডিওএইচএসের হয়ে ব্যাটিং ওপেন করেন। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে থাকলেও তারও আন্তর্জাকি ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। জিম্বাবুয়ে সফরে খেলার সুযোগ পেলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলবে না। তবে এই সফরকে ভবিষ্যতের ক্ষেত্র হিসেবে নিতে চান জিয়া,‘আমি খুশি, তবে খুব যে খুশি তা না। পাঁচ বছর আগে জাতীয় দলে ঢুকলেও পরে তা ধরে রাখতে পারিনি। বলতে গেলে এবছর সুজন ভাই আমাকে ওল্ডডিওএইচএসে ব্যাটিং ওপেন করালে আবার সবার নজরে আসতে পেরেছি। সুযোগ পেলে জিম্বাবুয়েতে ভালো খেলে জাতীয় দলে নিয়মিত হতে চেষ্টা করবো।’
পেস বোলার আবুল হাসান রাজুরও জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বিদেশ সফর জিম্বাবুয়েতে। তারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের পরিচয় মেলেনি। ওসব নিয়ে আপাতত তিনি ভাবছেনও না। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলতে পারলেই তিনি খুশি। এতে প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণ হবে বলে জানালেন,‘আমার বাবা খুব বলতেন জাতীয় দলে খেলতে হবে। এখনও কোন ম্যাচ খেলিনি। যদি খেলতে পারি খুব ভালো লাগবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হলেও কিছু আসে যায় না। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলছি সেটাই বড়। আমার বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। চেষ্টা করবো ভবিষ্যতে জাতীয় দলে ধারাবাহিক হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে।’
বাংলাদেশ সময়: ২০০১ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: মনোজ হালদার, নিউজরুম এডিটর