 |
ঢাকা: জাতীয় লিগে ভালো খেলেও নির্বাচকদের বিবেচনায় আসেননি বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিত হয়েছেন নানা ছুতোয়। এনামুল নিজেও মনে করেন তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এবার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন যেকোনো মূল্যে অক্টোবরের আগে জাতীয় দলে ঢুকবেন তিনি।
বাংলানিউজ: কতদিন জুনিয়র থাকবেন, বড় হবেন না?
এনামুল: একটা সিস্টেমের মধ্যে পড়ে গেছি। এনামুল হক মনি ভাই আগে ক্রিকেটে এসেছেন। মনি ভাই এখনও আছেন। তিনি যতদিন থাকবেন ততদিন আমাকে জুনিয়র থাকতে হবে। আমার জুনিয়র থাকতে খারাপ লাগে না। কারণ সিনিয়র হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলানিউজ: খেলাতেও কী জুনিয়র থাকবেন?
এনামুল: খেলাতে সিনিয়র হয়েছি। কেবল জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারছি না। আমাকে সেভাবে ব্যবহারও করছে না। ২০০৭ সালের পর দু’টো বছর আমি সেভাবে পারফর্ম করতে পারিনি। এছাড়া তিন বছর ধরে খুব ভালো খেলছি। তারপরেও তো সুযোগ পাইনি।
বাংলানিউজ: আপনি বলতে চাচ্ছেন আপনাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি?
এনামুল: এটা তো নির্বাচকদের ব্যাপার। আমি সেভাবে আশা হত হইনি। আমার কাজ পারফর্ম করা। ভালো খেলা। সে কাজটি করছি এবং করে যাবো।
বাংলানিউজ: এখন তো জাতীয় দলে অলরাউন্ডার বেশি, বিশেষজ্ঞ বোলারদের সুযোগ কমে যাচ্ছে না?
এনামুল: টি-টোয়েন্টি এবং টেস্টে অলরাউন্ডারদের খুব বেশি গুরুত্ব থাকে না। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় জনের পরে ব্যাটসম্যান খেলিয়ে খুব একটা লাভ হয় না। বরং বিশেষজ্ঞ বোলার থাকলে বেশি উপকারে আসে। বড় দলগুলো পাঁচ ছয়জন বোলার খেলায়। আমরা কেন পারবো না?
বাংলানিউজ: জাতীয় লিগে ভালো খেলার পর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদি ছিলেন?
এনামুল: আশা করেছিলাম খুব তাড়াতাড়ি জাতীয় দলে খেলে ফেলবো। কিন্তু ওটা তো আমার হাতে নেই। আমাকে কোথায় জায়গা দেওয়া যায় তা নির্বাচকরাই ভালো জানেন।
বাংলানিউজ: একজন ক্রিকেটারকে পারফরমেন্স দিয়ে নির্বাচকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হয়, আপনি কি তা পেরেছেন?
এনামুল: সত্যি, কথা বলতে আমি ভালো খেললে সব দিক থেকে আমার মঙ্গল হবে। গত দুই বছরে আমার পারফরমেন্সে আমি খুশি। বাংলাদেশ দলকে আমি খুব মিস করি। যখন খেলা শুরু করি তখন রুটি রুজির কথা ভাবিনি। তিন বছর ধরে খুব পরিশ্রম করেছি। ক্রিকেটে ভালোবাসা থেকে এটা করেছি।
বাংলানিউজ: সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসবে, হোম সিরিজ খেলার ব্যাপারে কতটা আশাবাদি?
এনামুল: আশা করি নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসার আগে আমি জাতীয় দলে ঢুকতে পারবো। হোক টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে বা টেস্ট ক্রিকেট। যে কোনো মূল্যে আমি জাতীয় দলে ফিরবো এটা আমার চ্যালেঞ্জ।
বাংলানিউজ: খেলার পাশাপশি কিছু করেন?
এনামুল: ক্রিকেট ভালো বিজনেস। জাতীয় লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট এবং বিপিএলে খেলে যে পরিমাণ টাকা উপার্জন করা সম্ভব একজন চাকরি করে তা করতে পারবেন না। জাতীয় দলে না খেলেও লাখ লাখ টাকা আয় করছেন ক্রিকেটাররা। এর চেয়ে ভালো ব্যবসা বা চাকরি আর কিছু আছে।
বাংলানিউজ: খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর ক্রিকেটে থাকবেন?
এনামুল: ক্রিকেটের সঙ্গে থাকবো। ধারাভাষ্যকার হওয়ার খুব ইচ্ছে। ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে পারবো না। দুই দিন ঘরে বসে থাকলে আমার মনে কি যেন করছি না। খুব অস্বস্তি লাগে। তখন আমার স্ত্রী বুঝতে পারে আমি মাঠে যেতে পারছি না দেখে অস্বস্তি হচ্ছে। অতএব ক্রিকেটে থাকবো এবং ধারাভাষ্যকার হয়ে।
বাংলানিউজ: ধারাভাষ্যকার হতে হলে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দরকার হয় আপনি কী তা অর্জন করেছেন?
এনামুল: আমি মনে করি সে যোগ্যতা আমার আছে। এখনও পড়াশোনা করছি। ভবিষ্যতে আরও যোগ্য হয়ে উঠবো।
বাংলানিউজ: ছেলে হলে ক্রিকেটার বানাবেন?
এনামুল: অবশ্যই ক্রিকেট খেলার চেয়ে ভালো কাজ নেই। এখন বাবা মা ছেলেকে মাঠে নিয়ে যায়। একজন সাকিব তৈরি করতে চায়। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমার সন্তানকে কেন খেলতে উৎসাহ দেবো না।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫৮ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর