 |
ঢাকা: বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার-অবিচার চলতে থাকলে খালেদা জিয়া ঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, “যদি বাধ্য করা হয় তাহলে আমরা ফের বসবো। প্রয়োজনে কর্মসূচি রিভিউ করবো।”
মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ১৮ দলীয় জোটের গণসমাবেশ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কার্যত এ বক্তব্যে সোমবারের গণসমাবেশে খালেদা জিয়া ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিরই রিভিউ করার আভাস দেন তরিকুল।
১০ জুন গণসমাবেশের আগের দিন সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও লিখিত অনুমতি পেতে পেতে সন্ধ্যা হয়ে যায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সমাবেশে বারবার মাইকের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনতে পারেননি।”
এ সময় “সরকার পক্ষের নানা প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানিতে জনমনে জন্ম নেওয়া ক্ষোভ স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমেই শেষ হবে” বলেও মন্তব্য করেন তরিকুল।
তিনি বলেন, “গণসমাবেশ ঠেকাতে সরকার সারাদেশে অঘোষিত হরতালে বাধ্য করেছে। বাস-লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছে। ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পেতে হয়েছে। অনেকেরই ওপরই দৈহিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।”
তরিকুল বলেন, “সামরিক বা বেসামরিক যাই হোক এটা স্বৈরাচারী আচরণ। এতে সরকারের চেহারা প্রকাশ পেয়েছে।”
“সরকারের এমন বিরোধিতা সত্ত্বেও গণসমাবেশে মানুষের ঢল নেমেছে” দাবি করে তরিকুল বলেন, “সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে সোমবার।”
গণসমাবেশের আগের দিন ১০ জুন সন্ধ্যায় লিফলেট বিতরণের সময় দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে থাকা কয়েক জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “প্রতিদিনই নতুন নতুন গ্রেফতার হচ্ছে। প্রতিদিনই খায়রুল কবীর খোকনদের মতো এর ওর জামিন নামঞ্জুর হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “হরতাল নিয়ে হয়তো কারো আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু সমাবেশ তো নিরীহ। সেটাই সরকার মেনে নিচ্ছে না।”
তরিকুল বলেন, “দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। করতে দেবো না। তাদের অধীনে যে নির্বাচন করা যায় না সাম্প্রতিক ঘটনাই তার প্রমাণ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার যা ঘটালো তা লজ্জাজনক।”
সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পোশাক-চলাফেরা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাসিনার করা সমালোচনার জবাবে তরিকুল বলেন, “শেখ হাসিনার মুখের যে ভাষা সেরকম ভাষা আমাদের নেত্রী পাননি। পরিবার আমাদের এমন কথা বলতে শেখায়নি। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীকে আয়নায় তার নিজের চেহারা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেবো।”
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তোলা কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তরিকুল বলেন, “কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত টাকার মধ্যে পার্থক্য আছে। খালেদা জিয়া কখনোই কালো টাকা সাদা করেননি। সরকার যাই বলুক, এগুলো মানুষ বোঝে।”
এছাড়া “যতোই এ সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে ততোই তারা এমন আচরণ করবে” বলেও মন্তব্য করেন তরিকুল
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সম্পর্কে তিনি বলেন, “হানিফ রাজনীতিক নন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়। তাই তাকে নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না।”
এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, মহিলা দল সেক্রেটারি শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০১২
এসকেএস/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর