রাজশাহী: আদালত অবমাননার দায়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালত।
গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়া অন্য তিনজন হলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজহার আলী ও তার সচিব কে এম আবদুস সালাম এবং বাজেট কর্মকর্তা আবদুর রশিদ।
শ্রম আদালত সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও রাসিকের এক কর্মচারীর অবসরকালীন ভাতা পুরোপুরি বুঝিয়ে না দেওয়ায় রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতের বিচারক আনসার আলী মেয়রসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে ২০১১ সালের ১৬ আগস্ট একই আদালতের চেয়ারম্যান কবিতা খানম মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২ মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের জন্য সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশ পালন না করায় বাদী আদালত অবমাননা করা হয়েছে মর্মে ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল বিষয়টি আদালতে গোচরে আনেন। এ ব্যাপারে আদালত মেয়র লিটনসহ চারজনকে চলতি মে’র ১০ তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আসামিরা নির্ধারিত দিনে হাজির না হওয়ায় আদালত রোববার এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
দুপুরে তা রাজশাহী পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে বোয়ালিয়া থানায় পাঠানো হয়।
শ্রম আদালত সূত্র আরও জানায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আবদুল জব্বার বাদী হয়ে ২০১০ সালে রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও অপর তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আরজিতে আবদুল জব্বার উল্লেখ করেন, তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারের পদ থেকে ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন।
অবসর গ্রহণের সময় তার মূল বেতন ছিলো ৬ হাজার ১০০ টাকা। অবসর গ্রহণের পর ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি তার প্রাপ্য আনুতোষিক ও ভবিষ্যৎ তহবিল বাবদ পাওনা হিসেবে ৫ লাখ ৮ হাজার ২৮০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু হিসাব শাখা থেকে তাকে মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তার অবসরকালীন ভাতা হিসেবে পাওনা অর্থ থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ২৮০ টাকা কম পাওয়ায় আবদুল জব্বার এ মামলা দায়ের করেন বলে আরজিতে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১৮ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১২
শরীফ সুমন / সম্পাদনা: সাইফুল ইসলাম, কান্ট্রি এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর