 |
| ছবি: নূর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকরা দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে বের হতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শ্রমিক।
কারখানার শ্রমিক সালমা আক্তার বাংলানিউজের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আগুন লাগে মেয়েদের চলাচলের সিঁড়ির অংশে ব্রয়লারের কাছে। তাই আমরা (নারী শ্রমিকরা) ছেলেদের সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামার চেষ্টা করলে কারখানার পিএম (প্রোডাকশন ম্যানেজার) মঞ্জু আমাদের বাধা দেন।’’
ওই পোশাক শ্রমিক আরো বলেন, ‘‘পিএম মঞ্জু বলেন আগুন লাগেনি, ফায়ার সিলিন্ডার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র) ব্রাস্ট হয়েছে। তারপরও আমরা জোর করে নামছি। অনেকে দুই তলা, তিন তলা থেকে লাফিয়ে নামছে। এক মেয়ের বাম পা’ই মনে হয় কেটে ফেলতে হবে।’’
তিনি জানান, আমার পরিচিত পাঁচ শ্রমিকের কোনো খোঁজ এখনো পাচ্ছি না। এরা হচ্ছে-আদুরী, সালমা, ফরিদা, আনোয়ারা ও রোকেয়া।
এদিকে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে ওই এলাকাতে।
তাদেরই একজন রাজবাড়ির পাংশার বাসিন্দা মমতাজ বেগম। তার বড় ছেলে হাবিবুরের স্ত্রী রাশিদা আক্তার কাজ করেন তাজরিন গার্মেন্টসে। শনিবার রাতে ওই গার্মেন্টসে আগুন লাগার পর থেকে রাশিদাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ‘‘আমার ব্যাটার বৌকে এনে দাও’’ বলে আহাজারি করছেন।
এমন হাজারো মানুষের করুণ আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে সেখানকার আকাশ বাতাস।
বাংলাদেশ সময়: ০৩৪৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১২
এআই/ সম্পাদনা : হুসাইন আজাদ, নিউজরুম এডিটর