 |
স্ব-শিক্ষিত দার্শনিক, চিন্তাবিদ ও লেখক আরজ আলী মাতুব্বরকে নিয়ে পর্যালোচনামূলক বই ‘আরজ আলী মাতুব্বর: পাঠ ও মূল্যায়ন’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি সম্পাদনা করেছেন রুদ্র সাইফুল। প্রকাশ করেছে সূচীপত্র।
বইটিতে লিখেছেন কাজী আবুল কাসেম, মুসা আনসারী, শামসুর রাহমান, বদরুদ্দীন উমর, কায়সুল হক, কামাল লোহানী, যতীন সরকার, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোজাফফর হোসেন, হাসান আজিজুল হক, হাসনাত আবদুল হাই, মুহাম্মদ শামসুল হক, আমজাদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, সেলিনা হোসেন, কাজী নূরুল ইসলাম, সেলিম আল দীন, আবু সাঈদ খান, আবুল বারকাত, আনু মুহাম্মদ, ড. মুকিদ চৌধুরী, মানস চৌধুরী, আবু সাঈদ তুলু ও আবদুল্লাহ আল মোহন।
আরজ আলী মাতুব্বর বরিশাল জেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৯০০ সালের ১৯ ডিসেম্বর। পারিবারিকভাবে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া না করতে পারলেও তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন বিজ্ঞানমনস্ক, স্বশিক্ষিত মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে। অসীম পাণ্ডিত্যের অধিকারী হয়েও কৃষিকাজ করে জীবনধারণ করতেন তিনি।
আরজ আলী মাতুব্বরের ছিল অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করার ক্ষমতা। ৮৬ বছর বয়সে ১৯৮৬ সালের ১৫ মার্চ দেহাবসানের পরও তাঁর জীবনজিজ্ঞাসা আমাদের জ্ঞানালোককে উন্মোচন করতে অনুপ্রাণিত করে। ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকার জন্য আরজ আলী মাতুব্বর বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন প্রতিক্রিয়াশীল চক্র দ্বারা।
আরজ আলী মাতুব্বর ৩০ বছরেরও অধিক সময়কালে ১১টি পাণ্ডুলিপি রচনা করেছেন। এর মধ্যে জীবদ্দশায় তিনটি বই এবং একটি সংকলন-- সত্যের সন্ধান, অনুমান, সৃষ্টি রহস্য ও স্মরণিকা। তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরে একটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থাকারে প্রকাশিত এ বইগুলো ছাড়াও তাঁর মৃত্যুর পর ছয়টি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি প্রকাশিত হয়েছে তিন খণ্ডে।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে-- সীজের ফুল (কবিতা), জীবন বাণী (আত্মজীবনী), ভিখারীর আত্মকাহিনী (আত্মজীবনী), কৃষকের ভাগ্যগ্রহ (প্রবন্ধ) এবং বেদের অবদান (প্রবন্ধ)।
‘আরজ আলী মাতুব্বর: পাঠ ও মূল্যায়ন’ বইটির প্রচ্ছদ করেছেন চারু পিন্টু। বইটির দাম রাখা হয়েছে ৪৫০ টাকা।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২২ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর,
ফেরদৌস মাহমুদ, শিল্প-সাহত্য সম্পাদক