চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরীসহ ১১ নেতা-কর্মী।
রোববার সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আব্দুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিন প্রার্থনা করেন। রোববার তাদের আদালতে হাজির হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল।
বিএনপি নেতাকর্মীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। তার জামিনের মেয়াদ ২০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। বাকি আসামিরা আগেও নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। তাদের জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন আদালত।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিনটি মামলার মধ্যে আসলাম চৌধুরী কোতয়ালী থানায় ভাংচুর আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এছাড়া কোতয়ালী থানায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় জামিন নিয়েছেন নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম বক্কর ও যুবদল কর্মী শেখ রাসেল।
নগরীর খুলশী থানায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় জামিন নিয়েছেন বিএনপির আরও ৮ কর্মী।
উল্লেখ্য গত ১৩ মে বিকেলে নগরীর নাসিমন ভবনের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলের সমাবেশ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে জোটের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে।
নগরীর কাজীর দেউড়ির মোড়ে জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিলকে সারিবদ্ধভাবে সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য পুলিশের অনুরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, জোটের নেতাকর্মীসহ কমপক্ষে ১০০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের জ্যেষ্ঠ্য নেতা, সাংসদসহ পৃথকভাবে মোট দু’হাজার ১‘শ জনকে আসামি করে নগরীর কোতয়ালী থানায় চারটি ও খুলশী থানায় দু’টিসহ মোট ৬টি মামলা দায়ের করে পুলিশ।
এর মধ্যে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় গত ২৩ মে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে পুলিশ।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩২ ঘণ্টা, জুন, ১৭, ২০১২
আরডিজি/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর