 |
ঢাকা: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নির্দিষ্ট কিছু অংশে এক স্তরের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে সীমান্তের চার হাজার ৯৫ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হবে। যদিও এর আগে দুই স্তরের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের দেওয়া প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে ত্রিপুরা রাজ্য সংলগ্ন সীমান্তের ভারতীয় অংশের যেসব জায়গায় এখনও বেড়া নির্মাণ হয়নি, সেখানে এক স্তরের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করবে ভারত।
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব তথ্য মঙ্গলবার প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ডেইলি নিউজ পত্রিকা।
পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আপত্তির মুখে ভারত সীমান্তে দুই স্তরের বেড়া স্থাপন না করে এক স্তরের কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বেড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে স্থাপন করা হবে নাকি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমান্তের ভারতীয় অংশের ভেতর নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করা হবে তা পরিষ্কার করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানার ত্রিপুরা রাজ্য সংলগ্ন ৮৫৬ কিলোমিটার অংশের ৮০ শতাংশ এলাকাতেই দুই স্তর বিশিষ্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতবিরোধী জঙ্গি তৎপরতা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অপরাধ কমানোই এ বেড়া নির্মাণের উদ্দেশ্য বলে দাবি করে আসছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
তবে বাকি অংশে বেড়া এখনও নির্মাণ না হওয়া প্রসঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের একজন মুখপাত্র ডেইলি নিউজকে জানান, গ্রামবাসীদের বাধার কারণেই ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন ৬১টি স্থানে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
মূলত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বেড়া স্থাপন করা না করাকে কেন্দ্র করেই এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় পত্রিকাটি।
আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। অপরদিকে ত্রিপুরা সরকারও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি জিরো পয়েন্টেই বেড়া স্থাপন করার জোর দাবি জানিয়ে আসছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের জিরোপয়েন্ট থেকে নিজেদের সীমান্তের দেড়শ’ গজ ভেতরে সীমানা বেড়া নির্মাণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশকে।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ হলে সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিপুরার সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলো পড়বে বিপদে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করতে গেলে ত্রিপুরার অনেক সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামেরই উল্লেখযোগ্য অংশ থাকবে বেড়ার অপরপাশে বাংলাদেশ অংশের দিকে। মূলত এ জায়গাতেই বেড়া নির্মাণে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীরা।
মঙ্গলবার ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত সিধাইয়ে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে বিএসএফ মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় পত্রিকাটি।
বৈঠকে সীমান্তের ওই স্থানগুলোতে দুই স্তরের বেড়ার বদলে এক স্তরের বেড়া নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযাযী বিএসএফ তাদের প্রস্তাব বাংলাদেশি প্রতিপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে। পরবর্তী অনুমোদনের জন্য বিজিবি প্রস্তাবটি এখন বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে প্রেরণ করা হবে বলে জানান মুখপাত্র।
পাশাপাশি বেড়া নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে খুব শিগগিরই বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তারা যৌথভাবে সীমান্তে বেড়ার নির্মাণস্থলগুলো পরিদর্শন করবেন বলে ওই মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় ডেইলি নিউজ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, ও মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন ৪ হাজার ৯৫ কিলোমিটার সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি ফ্লাডলাইট স্থাপনের কাজ অব্যাহত রেখেছে ভারত।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর