 |
| ছবি: কাশেম হারুন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহাজোটের বিদ্রোহ ঠেকাতে মন্ত্রীপরিষদ সম্প্রসারণ করছে সরকার।
তিনি বলেন, এ সরকারের সময় শেষ। তাদের পতন ঘনিয়ে আসছে। এখন আর অ্যান্টিবায়েটিক ও কোরামিন খেয়ে এই সরকার বাঁচতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন মির্জা ফখরুল।
মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রসারণ করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, এদেশে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ছাড়া অন্য কোনো পন্থায় নির্বাচন হবে না। সরকার নির্বাচন নিয়ে অন্য কোনো চিন্তা করলে সেটা ভুল করছে।
পদ্মাসেতু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই সরকারের পক্ষে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কথা এখন দেশের মানুষ আর বিশ্বাস করেন না।
ফখরুল বলেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা, ছাত্রদলের নতুন কমিটি তাদের অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখবে। এবং সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পতনের লক্ষ্য যে আন্দোলন চলছে, সেই আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য জিয়াউর রহমানের মাজারে শপথ নিয়েছেন ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, মহাজোটের শরিকদের মন্ত্রী করে তাদের হারানো জনসমর্থন ফিরিয়ে আনবে এমনটা মনে করলে সরকার ভুল করবে। এ সরকারের প্রতি জনগণের আর আস্থা নেই। কারণ, জনগণ ইতিমধ্যে তাদের অপকর্মের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘যারা মন্ত্রী হচ্ছেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের কতোটুকু ভিত্তি আছে, তা আমরা জানি।’’
‘‘মহাজোটের শরিকদের কেউ বিএনপির আন্দোলনে শরিক হতে চলে এলে আমরা বিস্মিত হবো না। কারণ, এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র’’ বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পদ্মাসেতুর ডিজাইন পরিবর্তন সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ``প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথাই জনগণ আর বিশ্বাস করে না। কারণ, তারা গত চার বছরে কিছুই করতে পারেনি না। হয়েছে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ।``
তিনি আরো বলেন, ``সরকার পারলে বিশ্বব্যাংকের বাতিল হওয়া ঋণ ফিরিয়ে আনত। কিন্তু তারা তা পারেনি বলেই পদ্মাসেতু এ সরকার করতে পারছে না ।``
‘সরকার আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে’ বাংলানিউজে এরশাদের এমন মন্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ``সরকার এমন চিন্তা করলে ভুল করবে। কারণ, দেশবাসী নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেবে না।``
``সরকারের সময় শেষ`` বলে দাবি করে তিনি বলেন, ``সরকার ইতিমধ্যে তার জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। জনগণের এখন আর সরকারের প্রতি আস্থা নেই। তাই তারা এখন নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্ত তাতে কোনো লাভ হবে না। কারণ, সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।``
``ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাকে অসভ্যতার ইঙ্গিত`` বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ``এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের ভিসি ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।``
জিয়াউর রহমানের মাজারে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নিলোফার ইয়াসমীন চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি আবুদল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণের নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩,২০১২
এমএম/সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com