 |
ঢাকা: নিরাপত্তার অভাবে আদালতে আসেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানিতে আদালতে কথাগুলো বলেন তাঁর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
রোববার শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এই যু্ক্তি তুলে ধরলে বিচারক বলেন, “অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার এ পর্যায়ে আসামির আদালতে আসার প্রয়োজন নেই। তবু তার কথা বলে এ পর্যন্ত ১০ বার সময় নিয়ে আপনারা শুধু-শুধু আদালতের সময় নষ্ট করছেন। এবার শেষবারের মতো সময় দিলাম। পরবর্তী তারিখে আসতে না পারলে তার অনুপস্থিতিতেই শুনানি করবেন।”
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জহুরুল হক মামলাটির অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য আগামী ২৮ আগস্ট ফের দিন ধার্য্ করেছেন।
মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার অন্যতম আসামি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট ছানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দিন, মোহসীন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ওমর ফারুক ফারুকী প্রমুখ আইনজীবী।
শুনানিতে তারা বলেন, “নিরাপত্তার জন্য খালেদা জিয়া আদালতে আসতে পারেননি। তাছাড়া তিনি শারিরীকভাবেও অসুস্থ। এছাড়া আগামী পরশু হজ্জ্বে যাবেন।`` এই যুক্তিতে তারা সময়ের প্রার্থনা করেন।
এ সময় দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “এরই মধ্যে তারা খালেদা জিয়ার উপস্থিতির জন্য ১০ বার সময় নিয়েছেন। তাই মামলাটির শুনানি করে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হোক।”
বিচারক জহুরুল হক বলেন, “নিরাপত্তা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। আমি কি করবো? তাছাড়া নিরাপত্তার কথা তো এর আগে আপনারা কোনোদিন বলেননি। মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার শুনানিতে আসামির উপস্থিতি বাধ্যতামুলক নয়। আদালত অপ্রয়োজনে তার চেহারা দেখতে চান না। তারপরও এবার সর্বশেষ বারের মতো সময় দিলাম। ওই তারিখ খালেদা জিয়ার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। তিনি আসুন না আসুন, শুনানি হবে।”
গত বছর ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চার জনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।
জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খান।
বাংলাদেশ সময় : ১৪১৩ ঘন্টা, আগস্ট ৫, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com