 |
ঢাকা : বাজারে লবণের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ কমিটি আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে মন্ত্রণালয়ে।
সোমবার বাণিজ্য সচিব মো. গোলাম হোসেন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।
কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুল ওয়াদুদ-কে আহ্বায়ক করে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মাহমুদুল হাসান খানকে সদস্য করা হয়েছে।
সচিব বলেন, “জনগণের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে লবণ বিক্রি হচ্ছে। মূল্য বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। রমজানের আগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় লবণ উৎপাদনকারীদের দুই লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। তবে উৎপাদনকারীদের দাবি ছিল সাড়ে চার লাখ টন লবণ আমদানির।”
গোলাম হোসেন বলেন, “গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত দুই লাখ ৮৫ হাজার টন লবণ আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার টন লবণ দেশে আনা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “প্রতি মাসে ৭০ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। আমদানিকৃত লবণের মধ্যে ৫০ হাজার টন লবণ বাজারে ছাড়া হয়েছে। আর দেশীয় উৎপাদন থেকে ২০ হাজার টন লবণ বাজারে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু লবণ আমদনির পরেও বাজারে এর মূল্য কমেনি।”
সচিব বলেন, “লবণের মূল্য কেন কমেনিÑ এর সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক তদন্ত প্রতিবেদন দেবে তদন্ত কমিটি।”
তিনি বলেন, “আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা অপরিশোধিত লবণ এনে প্রক্রিয়াজাত না করেই বাজারে অন্য কোম্পানির কাছে অতিরিক্ত মুনাফায় বিক্রি করে দিচ্ছে। যা শিল্প আমদানি নীতির পরিপন্থি।”
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি কেজি লবণের আমদানি মূল্য ২ দশমিক ৮০ টাকা। এটি প্রক্রিয়াজাত থেকে বাজারজাত পর্যন্ত খরচ পড়ে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা। প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে মুনাফা ধরে বিক্রি হলে ভোক্তা পর্যায়ে এর দাম ২০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সেই লবণ প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, “রোববার লবণ মিল মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। বৈঠকে লবণের মূল্য কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারাও সরকারকে আশ্বস্ত করেছে।”
বাংলাদেশ সময় : ১৯৩৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৬, ২০১২
এসআর / সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর