 |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বাঁশখালীর ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার বাদী বিমল কান্তি শীলকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
সোমবার এ মামলার অন্যতম আসামি শাহাজাহানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম তাকে জেরা করেন। এরপর আদালত আগামী ২ আগস্ট আবারও বিমল শীলকে জেরার সময় নির্ধারণ করেন।
চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরার আদালতে এ মমলার কার্যক্রম চলছে।
এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি ও জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাংলানিউজকে বলেন, “বিমল কান্তি শীলের সাক্ষ্যগ্রহণের পর আজ (সোমবার) দ্বিতীয় দিন তার জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালত আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত এ মামলার কার্যক্রম মূলতবি করেছেন।’
এর আগে গত ১৫ মে, ২৩ মে, ৩ জুন ও ২৭ জুন চার দফায় বিমল কান্তি শীল একই আদালতে সাক্ষ্য দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় প্রথম থেকেই বাদীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তৎকালীন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর চাচাত ভাই আমিনুর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
আট বছর ধরে নানা নাটকীয়তার পর ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি ৩৯ জনকে আসামি এবং ৫৭ জনকে সাক্ষী করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির এএসপি হ্লাচিং প্রু।
আসামীরা হলেন- আব্দুল করিম প্রকাশ কালা করিম, জাবেদ হোসেন, আহম্মদ মিয়া প্রকাশ তোতাইয়া, মাহবুবুর রহমান প্রকাশ মাহবুব আলী, মো. হাসান প্রকাশ আর্মি হাসান, সরওয়ার উদ্দিন, মো. শাহজাহান, আবু তৈয়ব, আকবর প্রকাশ আকবর আলী, শাহজাহান প্রকাশ দুলা মিয়া, আমিনুল হক, আহম্মদ হোসেন, মতলব, শফিউল আজম, জসিম, নজরুল ইসলাম, আমিনুর রহমান চৌধুরী প্রকাশ আমিন চেয়ারম্যান, আমিনুল হক প্রকাশ আমিনিক্যা, আনু মিয়া, সেলিম, বক্কর, রুবেল, আবু, অজি আহম্মদ, আজিজ, আজগর ওরফে রুবেল, জসিম, এনাম, লেদু, কামরুল ইসলাম, আমির হোসেন, ইউনূছ, আবুল কালাম, নূরুন্নবী প্রকাশ কালাইয়া, মেম্বার রশিদ আহম্মদ, আব্দুল নবী ও চেয়ারম্যান সবুর আহম্মদ।
২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম দফা অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
কিন্তু গত ২৬ ফেব্রয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ আগের ধারা বাদ দিয়ে নতুন ধারায় অভিযোগ গঠনের জন্য আদালতে আবেদন জানান। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের জন্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ৩০২/৩৪ ও ৪৩৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
আসামি আমিনুর রহমান চৌধুরী প্রকাশ আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়নি।
বাংলাদেশ সময় : ১৪০৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর