 |
ঢাকা: পূর্ব জাপান সাগরে অবস্থিত এক বিতর্কিত দ্বীপে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক টানপোড়ন শুরু হয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মাঝে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকলেও বিতর্কিত দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক টানপোড়নে লিপ্ত দেশ দুটি। কোরীয়দের নিকট দোকদো হিসেবে পরিচিত দ্বীপটিকে তাকেশিমা নামে অভিহিত করে থাকে জাপানিরা।
শুক্রবার প্রথম দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বীপটি সফর করেন লিং মিউং বাক। প্রতিবাদে জাপান দক্ষিন কোরিয়ায় নিযুক্ত তার রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে।
উভয় রাষ্ট্রই দ্বীপটির ওপর ঐতিহাসিক মালিকানা দাবি করে আসছে। উভয় দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাঝে এ ইস্যুটি একটি অস্বস্তিকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
উভয় দেশ থেকেই দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় সমান। আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও দ্বীপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস আরোহন ক্ষেত্রের মাঝে অবস্থিত। এছাড়া এর চারপাশের সাগরে বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আছে বলে ধারণা করা হয়।
বর্তমানে দ্বীপটি দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে। ১৯৫৪ সাল থেকেই সেখানে উপকূল রক্ষী বাহিনীর একটি ক্ষুদ্র দলকে মোতায়েন রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রেসিডেন্ট লির আগে ২০০৮ সালে দ্বীপটি সফর করেন দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হান সেং সু। জাপানের সঙ্গে তখনও এ নিয়ে কূটনৈতিক টানপোড়নে জড়িয়ে পড়ে দেশটি।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার একজন মুখপাত্র দ্বীপটিতে প্রেসিডেন্ট লির সফরের কথা ঘোষণা করেন। সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট প্রথমে দ্বীপটির নিকটবর্তী উলেয়াং দ্বীপে যান, এর পর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে বিতর্কিত দ্বীপটিতে পৌঁছান তিনি।
এদিকে দ্বীপটিতে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের সফর সূচি ঘোষণার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় জাপান। ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ হিসেবে জাপান তার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানোর পাশাপাশি টোকিওতে নিযুক্ত কোরীয় দূতকেও তলব করেছে বলে জানিয়েছে জাপানি সংবাদমাধ্যম।
এ ব্যাপারে জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোইশিরি জেমবা বলেন তিনি বুঝতে পারছেন না কেন এমন সময় দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট ওই বিতর্কিত এলাকা সফর করতে গেলেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ুনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে লির সফর সামনে রেখে দ্বীপটির আশপাশের এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দিয়েছে কোরীয় সামরিক বাহিনী।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর