 |
ঢাকা: বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীর হত্যা মামলায় ছোট ছেলে খলিকুজ্জামান কুশলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান।
বুধবার তিনি ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে এ সাক্ষ্য দেন।
জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কুশলের ছুরিকাঘাতে কবির নিহত হয়েছে এমন কথা এড়িয়ে গেছেন জনপ্রিয় এ অভিনেতা।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “কথা কাটিকাটির এক পর্যায়ে আমি কবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় দেখতে পাই। তখন আমার কোনো বোধশক্তি ছিল না।”
আগামি ১৯ ফেব্রুয়ারি ফের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।
উল্লেখ্য, অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীর গত বছরের ১৩ মার্চ বিকেলে রাজধানীর সূত্রাপুর থানার দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনের ৪৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের নিজ বাড়িতে ছোটভাই কুশলের ছুরিকাঘাতে খুন হন।
এ ঘটনার এটিএম শামসুজ্জামান ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আরেক ছেলের বিরুদ্ধে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওইদিনই পুলিশ কুশলকে গ্রেফতার করে। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আটক আছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে শামসুজ্জামান শুয়ে ছিলেন। এ সময় গেটে দুটি বিকট শব্দ শুনে বের হয়ে দেখেন তার বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীর এক তালাচাবিওয়ালাকে দিয়ে বাড়িতে ঢোকার বিকল্প দরজার তালা ভাঙছে।
ছেলেকে তালা ভাঙার কথা জিজ্ঞাসা করলে কবীর তার বাবাকে কটূক্তি করে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ছেলের বেয়াদবী সহ্য করতে না পেরে তাকে একটি থাপ্পড় মারেন এটিএম শামসুজ্জামান। কবীর তৎক্ষণাত তার বাবাকে এলোপাথারীভাবে কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে। ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভেতর ফেলে দেয়। ঘরের দেয়ালের সঙ্গে এটিএম শামসুজ্জামানের ধাক্কা লেগে ফেটে যায়।
এসময় ছোট ছেলে খলিকুজ্জামান কুশল তার ঘর থেকে বের হয়ে এসে উর্পযুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে এবং বলতে থাকে ‘বল, কেন আমার বাবাকে মেরেছিস, বল।’
চিৎকার শুনে এটিএম শামসুজ্জামানের ছোট ভাই ইব্রাহিম জামান কুশলকে জোর করে সরিয়ে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। কবীরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। সেখানেই কবীর মারা যায়।
মামলায় নিহত কবীরকে বদরাগী এবং তার পিতা-মাতাকে মাঝে মাঝেই মারধর করতো বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনাটি তদন্ত করে সূত্রাপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম গত বছরের ২৫ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১৩
এমআই/আরআর