 |
নিউইয়র্ক : বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
সফরকালে কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার না দেওয়া ও সভা-সমিতিতে তার মন্ত্রণালয়ের বাইরে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিলেও শিক্ষামন্ত্রী বাংলানিউজকে ৪০ মিনিটের এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, শিক্ষা ব্যবস্থা, তার স্বপ্ন ও কর্মকান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন এ সাক্ষাৎকারে।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, দেশের মৌলিক ইস্যুতে বিরোধীদলসহ সকলকেই সরকারকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আজকের নতুন প্রজন্মই বাংলাদেশের একমাত্র সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যত উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, রাজনীতিবিদদের এবং আমাদের সকলেরই উচিৎ এমন কিছু না করা যাতে নতুন প্রজন্মের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাঁধার সৃষ্টি না করে।
হরতাল, আন্দোলনের নামে শিক্ষাজীবন ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে তিনি অত্যন্ত দু:খজনক বলে মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক সংকট নিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে আলাদা করে দেখা নয়- সবাই মিলেই মৌলিক ইস্যুগুলোতে এক হওয়া সম্ভব এবং সমাধানও সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে তিনি জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী, আলেম-ওলামা, বিরোধীদলসহ রাজনীতিবিদদের সবার মতামত নিয়েই আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষানীতি করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি আলেমরাও আজ অনুপ্রাণিত হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগ কিংবা কোন দলের নয়, জাতীয় নীতি আদর্শেই শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। এটা আমার একক কৃতিত্ব নয়। আমাদের সকলকেই দায়িত্ববান হতে হবে, দায়িত্বপালন করতে হবে। রাতারাতি সবকিছু বদলে দেয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন কিছুই অসম্ভব নয়। সবাই মিলেই অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ওয়াশিংটন বৈঠকে বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা রবিন হস বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেছেন এবং সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ।
তিনি বলেছেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক প্রযুক্তিতে নৈতিক মূল্যবোধের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে বিপ্লব ঘটে গেছে পাঠ্যপুস্তকে তার প্রতিফলন ছিলনা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা করা হয়েছে। নিজেরা পড়, শেখ, ভাল করবে।
পাঠ্যক্রমে দ্বিতীয় বিষয় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যেখানে ইংরেজির মত কম্পিউটার বিষয় থাকবে। তাছাড়া “বাংলাদেশ অবশ্য পরিচয়” সর্বক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হবে। কারণ যে নিজের দেশকে নিয়ে গর্ব করতে পারেনা দেশের জন্যও সে কিছু করতে পারেনা। তাই এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন দেশ নিয়ে গর্ব করতে শেখে সেই শিক্ষাই নিশ্চিত করতে চাই।
ন্যূনতম সকলের জন্য একই মানের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে চলেছে। বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে উদাহরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করে মুনাফা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ৬৭টি আইটেম এর ২৭ কোটি বই লাগবে আগামী বছর। এ বছর ২৩ কোটি বই দেয়া হয়েছে একদিনে।
সবাই বই পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সেন্ট মার্টিনেও অনায়েসেই বই পাওয়া যায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শুরু থেকেই এটা ছিল চরম দুর্নীতির আখড়া। সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের রায়ে সেটাই প্রমাণিত।
এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। এক সঙ্গে ১২‘শ লোকবল ছাঁটাই হলে বিশ্ববিদ্যালয় চলবে কি করে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তারাই যোগ্য হবে যারা নেতৃত্ব দিতে পারবে স্ব স্ব ক্ষেত্রে। এজন্য সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। তা না হলে দুষ্টচক্রের হাতে দেশ পেছনের দিকে এগুতে থাকবে।
তিনি দেশের সকল রাজনীতিবিদ, পেশাজীবি, অভিভাবকসহ সকলের প্রতি আবেদন করেছেন, কেউ যাতে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতির বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, নুরুল ইসলাম নাহিদ ৯/১১ এ সন্ত্রাসী হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রাউন্ড জিরো পরিদর্শন করেন। ঢাকায় উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তিনি হোটেলে বাংলানিউজকে এ সাক্ষাৎকার দেন।
বাংলাদেশ সময় : ১৬০৩ ঘন্টা, মে ৩১, ২০১২
সম্পাদনা : সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
kumar.sarkerbd@gmail.com