 |
ঢাকা: অবশেষে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের পদে রাখতে শেয়ার কেনার জন্য সময় বাড়ানো হচ্ছে! ২সিসি ক্ষমতাবলে এসইসি’র বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যেসব পরিচালক নূন্যতম শেয়ার ধারণ করতে পারেননি তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাজার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই পরিচালকদের সময় দেওয়া হচ্ছে বলে এসইসি’র একটি সূত্র জানায়।
যদিও অনুষ্ঠানিকভাবে এসইসি’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো জানানো হয়নি। এ বিষয়ে এসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও কমিশন মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “কোম্পানি পরিচালকদের শেয়ার কেনার সময় বাড়ানোর বিষয়ে এখনও কমিশনের কাছ থেকে আমি কোনো ইঙ্গিত (ইনডিকেশন) পাইনি। সুতরাং এ বিষয়টি আমার জানা নেই।”
এদিকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এসইসি যদি পরিচালকদের বিষয়ে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিলে পরিচালকরা কারসাজির মাধ্যমে বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তাই এসইসি যাতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বিষয়ে কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেয় সেলক্ষ্যে চাপ প্রয়োগ করতে পরিচালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাজারে দরপতন ঘটাচ্ছেন। তাদের মতে, এই বিষয়টি ছাড়া বাজারে দরপতন ঘটার মতো কোনো গুজব এ মুহূর্তে বাজারে নেই।
তবে এসইসি’র একটি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে শেয়ার ক্রয়ে সময় চেয়ে এসইসিতে প্রায় ২শ’ পরিচালক আবেদন করেছেন। মূলত তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাজার স্থিতিশীল করতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে এসইসি।
এদিকে, উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের জন্য আরও ৬ মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করবে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)। সূত্র জানায়, সংগঠনটি সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
অন্যদিকে, বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ পরিচালকদের অযোগ্য ঘোষণায় কালক্ষেপণ করছে সংস্থাটি।
সবকিছু বিবেচনা করে তারা বলেন, এ মুহূর্তে এসইসি পরিচালকদের শেয়ার ক্রয়ের সময় বাড়াতে পারে।
যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “হাইকোর্টের রায়ের ফলে এসইসি’র আইন বহাল রয়েছে। পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত যে গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল, সে অনুযায়ী কাজ হবে।”
কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের ১ মাস পার হলেও এসইসি’র পক্ষ থেকে পরিচালকদের বিষয়ে এখনো অবস্থান পরিষ্কার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর পরিচালকদের নূন্যতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে এসইসি। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির ৩০ শতাংশ এবং পরিচালকদের এককভাবে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। ওই পরিমাণ শেয়ার ধারণের এসইসির বেধে দেওয়া সময় শেষ হয় গত ২১ মে।
এদিকে, ২১ মে হাইকোর্ট ৩টি রিট খারিজ করে দেওয়ার পর ২৪ মে এসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এতে বলা হয়, ‘পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এই প্রজ্ঞাপন পরিপালন সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশন জরুরি ভিত্তিতে তথ্যাদি সংগ্রহ করছে। আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর কমিশন তা যথাযথভাবে পরিপালনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
কিন্তু আদালতের কপি পাওয়ার পর ১মাস অতিবাহিত হলেও এখনো অবস্থান পরিষ্কার করেনি এসইসি।
এদিকে, এসইসি’র ২সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাইকোর্টে করা ৫ রিটও এরই মধ্যে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এখনও এসইসি’র পক্ষ থেকে উদ্যোক্তা পরিচালকদের বিষয়ে অনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
তাই বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ করে এবং এসইসি’র নীরব ভূমিকা দেখে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসইসি বাজারের স্বার্থেই পরিচালকদের শেয়ার ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
বাংলাদেশ সময়: ২০২৫ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০১২
এসএনএইচ/আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর