 |
| ছবি: জীবন আমীর/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: ঈদের আগ মুহূর্তে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ কমেছে। শনিবার সকালের দিকে খানিকটা ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। গত কয়েকদিনের মতো সঠিক সময়ে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়া নিয়ে এদিন যাত্রীদের খুব একটা অভিযোগ করতেও দেখা যায়নি। শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফিরতে গিয়ে লঞ্চে আসন পেয়ে সন্তুষ্টির ছাপ দেখা গেছে অধিকাংশ যাত্রীর মুখে।
তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ পাওয়া গেছে শনিবারও। বাংলানিউজকে বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ঈদের আগ মুহূর্তে লঞ্চ মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে থাকেন। যাত্রীদের সুবিধা দেখার চেয়েও তাদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করাটাই যেনো গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশালগামী একটি লঞ্চে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেবিন ভাড়া অন্যান্য সময়ের চাইতে দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। এক হাজার টাকার কেবিন এখন ২২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে স্টাফ কেবিনের ক্ষেত্রেও। ঝুপড়ি ঘরের মতো এসব কেবিনের ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে।
এছাড়া ডেকে বসে যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া যায় অনেক অভিযোগ। সাইফুল কাদের নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, “ডেকে জায়গা পাওয়ার জন্য লঞ্চের এক কর্মচারীকে ১০০ টাকা বখশিস দিতে হয়েছে। বখশিসের মাত্রা যদি এতো বেশি হয়, তাহলে পথে পথে বখশিস দিতে দিতে আমাদের পকেটই ফাঁকা হয়ে যাবে।”
তবে শেষ দিনেও যাত্রীদের লঞ্চের ছাদে চড়তে দেখা গেছে। দূরপাল্লার অনেক যাত্রীই লঞ্চের ছাদে চড়ে বাড়ি ফেরার এ ঝুঁকি নিচ্ছেন। লঞ্চের ছাদে ভোলার নাজিমুদ্দিন নামে যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “ভেতরে জায়গা ছিল, তবে খুব কম। তার চেয়ে ছাদে অনেক বেশি আরামে যাওয়া যাবে। তাই বন্ধুরা মিলে ছাদে চড়েই আনন্দ করে বাড়ি ফিরছি।”
একই কথা বললেন নাসিমা আক্তার নামে অন্য এক যাত্রী। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভেতরে বসার মতো জায়গা নেই। ছাদে একটু সমস্যা হলেও ভেতরের চাইতে অনেক বেশি আরামদায়ক। নিরিবিলি যাওয়া যায়। একটু ঝুঁকি থেকে যায়, তবুও কি আর করা।”
তবে ছাদে চড়া যাত্রীদেরও গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “আমরা সব সময় যাত্রীদের কাছ থেকে ন্যায্য ভাড়া আদায় করার পক্ষে। কোনো যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হোক, এমনটি আমরাও চাই না। ঈদের সময় বলে অন্য সময়ের চাইতে ভাড়া হয়তো একটু বেশি হতে পারে, তবে সেটা মোটেও যাত্রীদের ক্ষমতার বাইরে নয়।”
তিনি আরো বলেন, “মালিকপক্ষ থেকে আমরা সঠিক ভাড়া আদায় করার নির্দেশ দিলেও কোনো কোনো অসাধু কর্মচারী আমাদের অগোচরে বেশি ভাড়া আদায় করছেন। সেজন্য কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা যাবে না।”
ছাদে যাত্রী তোলা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, “যাত্রীদের বেঁধেও রাখা যায় না। তারা সবার কথা অমান্য করেই লঞ্চের ছাদে চড়ছেন। কোনো কোনো লঞ্চের কর্মচারীরাও ছাদে চড়তে সহযোগিতা করছেন। তবে আমাদের চোখের সামনে পড়লেই আমরা ব্যবস্থা নিতে দেরি করি না।”
শনিবারও বুড়িগঙ্গার মাঝনদী থেকে অনেক যাত্রীকে লঞ্চে চড়তে দেখা গেছে। ছোট নৌকায় চড়ে নদীর মাঝখানে গিয়ে তারা লঞ্চে চড়ছেন। দূর থেকে এমন দৃশ্য দেখেও সংশ্লিষ্ট লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
উত্তরা থেকে আসা এক যাত্রী বাংলানিউজকে বলেন, “আজ তুলনামূলক ভিড় কম হবে বলেই বৃদ্ধ মাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এতো কম ভিড়েও অতি উৎসাহী যাত্রী ও লঞ্চের কর্মচারীদের কারণে আমরা লঞ্চে উঠতে পারছি না। দেখা যাক, কখন চড়তে পারি।”
তবে ঝক্কি-ঝামেলার পরও যেসব যাত্রী লঞ্চে চড়তে পেরেছেন, তাদের মুখে আনন্দের সীমা নেই। লঞ্চে চড়তে পেরে অনেকেই বলেছেন, “ভাড়া যা হোক, তাতে কোনো আপত্তি নেই। বাড়ি যেতে পারছি, এটাই হচ্ছে বড় কথা। বাকি পথ শান্তিপূর্ণভাবে যেতে পারলেই হলো।”
সুন্দরবন-৭ ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে লঞ্চ থেকে হৈ হৈ করে উঠলেন একদল যাত্রী। বাড়ি ফেরার আনন্দ চিকি চিক করছে তাদের চোখে-মুখে। টার্মিনালে বসে থাকা অপর যাত্রী তখন বলে উঠলেন, “পরের লঞ্চের অপেক্ষায় আছি। লঞ্চ পেলে আমরাও এভাবেই আনন্দে মেতে উঠবো।”
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৮, ২০১২
এমএ/সম্পাদনা: রানা রায়হান ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর