 |
ঢাকা: ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা ৬ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাস, ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস এবং এক বছর থেকে কমিয়ে ৯ মাস নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা প্রত্যাহার করে আগের সূচি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে গত ১৪ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতি ও প্রবিধি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ওই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ঋণ শ্রেণি বিন্যাস, ঋণ পুন:সূচিকরণ এবং ডাউন পেমেন্ট সংক্রান্ত নতুন নিয়ম চালুর কথা বলা হয়। কিন্তু এফবিসিসিআই বলছে, নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে তাতে দেশের রপ্তানিসহ যে কোন ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখা সম্ভব হবে না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরো জোনসহ ইউরোপে ভয়াবহ ঋণ সংকটের কারণে চরম অর্থনৈতিক মন্দায় আক্রান্ত হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতগুলি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে তীব্র জ্বালানি সংকট, কঠোর মূদ্রা সংকোচন নীতি, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিমাত্রায় ঋণ গ্রহণজনিত তারল্য সংকট ও ব্যাংক সুদের উচ্চ হার দেশের সমগ্র বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে সংকটে নিপতিত করেছে।
সংকুচিত মূদ্রানীতির কারণে একদিকে যেমন নতুন শিল্পায়ন বা বিনিয়োগ হচ্ছে না, অন্যদিকে জ্বালানির অপর্যাপ্ততার কারণে বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদনশীল খাত সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এফবিসিসিআই বলছে, এ অবস্থায় বিদ্যমান মূদ্রা সংকোচন নীতির সঙ্গে সঙ্গে নতুনভাবে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ঋণ শ্রেণিকরণ, পুন:সূচিকরণ ও ডাউন পেমেন্ট সংক্রান্ত সার্কুলারের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সব শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে এফবিসিসিআই আশংকা করছে।
এমতাবস্থায়, বর্তমান আন্তর্জাতিক ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪২ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
এসএআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর