ঢাকা: যৌথ উদ্যোগে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৭৭তম জন্মবাষির্কী উপলক্ষে কবির জন্মোৎসব উদযাপন করলো জাতীয় প্রেসক্লাব ও জাতীয় কবিতা পরিষদ।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউন্সে এ উৎসব আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, ছড়াকার, গীতিকাররা উপস্থিত ছিলেন।
কবির জন্ম উৎসবে যোগ দিয়ে মুস্তাফা জামান আব্বাসী বলেন, “বাংলাদেশে মাটি ও মানুষের কবি আল মাহমুদ। তিনি শুধু আমার বয়সে বড় নন, সব দিক থেকেই বড়। তার মতো কবিকে পেয়ে জাতি হিসেবে আমরা যেমন ধন্য, তেমনি তার সম্মানের দিকটুকু যেন কম না হয়।”
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কবি জাকির আবু জাফর বলেন, “কবি আল মাহমুদ শুধু আমাদের প্রাণের কবি। এ জন্যই যে তিনি আমাদের প্রাণের কথাগুলো লিখে গেছেন। অনুভূতির কথা শুনিয়েছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন, বাস্তবতার পথে হাঁটিয়েছেন।”
কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, “কবি সম্রাট আল মাহমুদ আবহমান বাংলা ও বাঙালি ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ রুপকার। তিনি কেবল আমাদের একজন শ্রেষ্ট কবি, কথাশিল্পি,সাহিত্যিক ও সাংবাদিকই ছিলেন না, বরং পুরো জাতির মেধা, মনন ও সাহিত্যে আল মাহমুদ এক ও অবিভাজ্য সত্ত্বা।”
কবি আল মাহমুদ বলেন, “কবি’র কাজই হলো মানুষকে স্বপ্ন দেখানো। আর এ কাজটি আমি সারা জীবন করার চেষ্টা করেছি। মানুষ সারা জীবন শুধু বাস্তবতার মধ্যে থাকবে এমনটি নয়। তাকে কখনো কখনো স্বপ্নে বিভোর হতে হয়। বাস্তবতা ও স্বপ্নের এ কাজটির যোগসাজস করে দেয় কবিরা।”
তিনি বলেন, “আমি আমার জীবনে সুখ ও দুঃখকে সমানভাবে অনুভব করেছি। দু’টি বিষয়কে আমার কবিতায় সমানভাবে দেখাতে চেয়েছি।”
কবি আরও বলেন, “কবিতা জীবনের রহস্য যতো সহজে উন্মোচন করতে পারে, পৃথিবীতে অন্য কোনো বিষয় তা করতে পারে না।”
আল মাহমুদ বলেন, “দেশের মানুষ কমবেশি আমাকে জানেন। আমি তাদের মধ্যেই কাজ করেছি। তাদের মধ্যেই থাকতে চেয়েছি। দেশের মানুষ আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন এটাকে আমি উচ্চমূল্য দিয়ে থাকি। এটাই আমার চলার শক্তি যুগিয়েছে। আমার বিশ্বাস, যারা সাহিত্য চর্চা করেন তারা খালি হাতে ফেরেন না। আমিও শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছি না।”
কবির ৭৭তম জন্ম উৎসবে কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি কেজি মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কবি বেলাল চৌধুরী, রেজাউদ্দীন স্টালিন, লেখিকা জোবাইদা গুলশান আরা, কবি আল মুজাহিদী, কবি ফজল সাহাবউদ্দিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০১২
এআই/এনএম/ জেডএম