 |
ঢাকা : দিল্লির চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনায় সারাবিশ্বে তোলপাড় চলছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে।
অন্য দিকে, ভারতের লোকসভায় এ নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। তোপের মুখে পড়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে।
ঐ বর্বর ঘটনার সময় দেশের মানুষের আয়কর দিয়ে বেতনভুক্ত পুলিশ বাহিনী কী করছিল- মর্মে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে দেশটির হাইকোর্ট।
রোববার দিল্লির একটি চলন্ত বাসে একজন মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে গাড়ি থেকে ফেলে দেয় বাসটির চালকসহ ৬ পাষণ্ড।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটিকে “শিক্ষা দেয়ার জন্য” এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
তবে আজ (বুধবার) আবার দিল্লির সর্বোচ্চ আদালতে তোলা হলে অভিযুক্ত পবন গুপ্ত অভিযোগ স্বীকার করে। এ সময় সে উচ্চস্বরে বলে, “আমি দোষী, আমাকে ফাঁসি দিন।”
আটককৃত ৬ জনের মধ্যে ৩ জনকে (পবনসহ বিনয় শর্মা ও মুকেশ) আজ আদালতে তোলা হয়।
তবে, অভিযুক্ত বিনয় দাবি করেছে, “আমরা শুধু ছেলেটিকেই আঘাত করেছি, মেয়েটিকে নয়।”
বাসের স্টাফ মুকেশকে পরবর্তী তদন্ত কাজে রাখতে অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। অন্য দিকে পবন ও বিনয়কে আপাতত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ধর্ষিত মেডিকেল ছাত্রী এখন দিল্লির একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
অন্য দিকে, “দেশের জনগণ পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে, কিন্তু এ ঘটনার সময় পুলিশ কী করছিল?” মর্মে দেশটির পুলিশ কমিশনারের কাছে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির সর্বোচ্চ আদালত।
তাছাড়া, আদালতের পক্ষ থেকে আগামী দু’দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, “ঐ ঘটনা পুলিশের ৫টি চেকপোস্টের আওতাধীন এলাকার মধ্যে ঘটছিল, অথচ কেউ গাড়িটিকে থামায়নি! ঐ এলাকার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি দিতে হবে।”
এ দিকে, ভারতের লোকসভায় (পার্লামেন্ট) তোপের মুখে পড়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে। তবে, নারীদের নিরাপত্তার জন্য একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন তিনি।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, বাসের ঝাপসা জানালা (যে জানালার বাইরে থেকে ভেতরে কী ঘটছে তা দেখা যায় না) অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করা হবে। রাতের বেলা পুলিশি প্রহরা বাড়ানো হবে। এবং প্রত্যেকটি বাসকেই পুলিশের কাছে তার চালক, সহকারি এমনকি পরিচ্ছন্নকর্মীর ছবি দেখাতে হবে।
অন্য দিকে, বিজেপি নেত্রী সুশমা স্বরাজের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধীদলের কর্মীরা। নারীর নিরাপত্তা প্রদানে সরকারের ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশে অভিযুক্তদের ফাঁসি দাবি করা হয়।
এ দিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিত এর বাড়ির সামনে বিক্ষোভের সময় জনতার প্রতি গরম পানি (জলকামান) নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা নারীদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন!
বাংলাদেশ সময় : ১৬২৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৯, ২০১২
সম্পাদনা : হুসাইন আজাদ, নিউজরুম এডিটর, eic@Banglanews24.com