ঢাকা: রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের অর্থ আমরা বাঙালীত্ব হারাচ্ছি।
পবিত্র জুমাতুল বিদা উপলক্ষে আরাকানে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের অবসান কামনা করে শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ (ভাসানী) আয়োজিত প্রার্থনা সভা এবং ইফতার মাহফিলে আমার দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা প্রশ্নে আমরা বারবার বলি ভারতের আশ্রয় দেওয়ার কথা। কিন্তু একটি কথা একবারও বলি না, পাকিস্তানি বাহিনীর তাড়া খেয়ে আমরা যখন গ্রামে পালিয়েছিলাম, তখন গ্রামের সাধারণ মানুষ নিজেরা না খেয়ে আমেদের খেতে দিয়েছিলেন এবং নিজেরা উঠানে ঘুমিয়ে আমাদের ঘরে জায়গা দিয়েছিলেন।’’
‘‘বাঙালির এ অতিথি আপ্যায়নের ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। আজ যদি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করি তবে বুঝতে হবে আমরা বাঙালিত্ব হারাচ্ছি।’’
ঢাবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের পলিসিকে সমর্থ করে ৩টি প্রস্তাব দেন। সেগুলো হচ্ছে, ওআইসি’র পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক এনজিওকে সঙ্গে রাখা, রোহিঙ্গাদের জাতিগত স্বীকৃতি দিতে মায়ানমার সরকারকে চাপ সৃষ্টি করা এবং বাংলাদেশ থেকে গিয়ে আলোচনা করে এ সমস্যা সমাধান করা।
আরাকান অধিবাসী হু মং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আরাকান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, এটি মায়ানমারের অংশ নয়। ষোড়শ শতকে শায়েস্তা খাঁ চট্টগ্রামকে আরাকান দখল থেকে মুক্ত করার আগে প্রায় এক শতাব্দী এলাকাটি আরাকানের অংশ ছিল। বাংলাদেশ সরকার চাপ দিলেই এ সমস্যার নিষ্পত্তি হতে পারে।
ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমদ ভাসানীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাবির পালি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ সংঘের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুশীল বড়ুয়া, জাতীয় স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি মোয়াজ্জেম খান মজলিস, ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আমরান আহমদ, পিপলস্ ভয়েসের সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান, প্রবীণ সাংবাদিক রাকিব চৌধুরী প্রমুখ।
ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২০৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১২
এটি/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর